সাপ্তাহিক
এবং অধ্যায় সাপ্তাহিক পত্রিকা
Co-Sponsor : KITCHEN SERIESTiitel Sponsor : CityClub, Chinsurah Bus Stand,Chinsurah,Hooghly, 712101
[Kuthchina & Dr. Aquagaurd]
Bislaxmitala,Pipulpati,Chinsurah,
Hooghly, 712101
Supported By : OverallCad,Powered By : Five Star Tour & Travels,Chinsurah Bus stand,Chinsurah,Hooghly, 712101
Pragatinagar,Bhagabatidanga,
Chinsurah,Hooghly,712101
দেবরাজ জানা(প্রধান সম্পাদক)
ধীমান ব্রহ্মচারী(সম্পাদক)
মৌসুমী ব্রহ্মচারী(সহ সম্পাদক)
রায়ের বেড়, চুঁচুড়া, হুগলি,৭১২১০১
সম্পাদক টিম
প্রশান্ত ভট্টাচার্য,দেবজ্যোতি কর্মকার,
প্রদীপ চক্রবর্তী,হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়,
মানস শেঠ,সপ্তর্ষি ঘোষ,অঙ্কিত বাগচী
E-mail-ebongadhyay.parbo@gmail.com
9836068535/8335967597
প্রতি মাসে চারটে সংখ্যা।
● শুধুমাত্র whatsapp এই বাংলা টাইপের মাধ্যমে লেখা নেওয়া হবে।● সকলের লেখাই যে প্রকাশ হবে,এমন নয়।মূলত মনোনীত লেখাই প্রকাশ হবে।
● যেকোন ধরনের লেখা দেওয়া যেতেই পারে।
● মাসের প্রতি রোববার সকালেই প্রকাশিত হবে ।
● সপ্তাহের বৃহস্পতিবার লেখা দেওয়ার শেষ দিন।
● নিজস্ব ফেসবুক প্রোফাইলে লিঙ্ক পেয়ে যাবেন।
--------------------------------------–-----------
ব্লগের কথা
এক ভয়ানক পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বসভ্যতা।অনেক দেশেই চলছে মৃত্যুর মিছিল।আমরাও হয়তো এর থেকে খুব একটা দূরে নেই।কিন্তু কিছু সমর্থক পদক্ষেপ নিতেই হবে এরকম এক পরিস্থিতিতে।আমরা যাঁরা শিল্প চর্চা করি,সংস্কৃতি আঁকড়ে পড়ে থাকি দিন থেকে মাস থেকে বছরের পর বছর,তাঁদের জন্যই 'এবং অধ্যায়' এর এই সাপ্তাহিক পরিকল্পনা।একদিকে রাষ্ট্রের দেওয়া নির্দেশ অন্যদিকে আমাদের সুপ্ত-শুভ ও আবশ্যিক চেতনা নিয়ে তৈরি করছি আমাদের শিল্প।সত্যিই,এখন বাড়িতে থাকাটাই বিরাট কাজ।এটাই এক মহৎ দেশসৈনিকদের কাজের সঙ্গ দেওয়া,এটাই যদি আমরা সচেতন শুভ সংস্কৃতিপ্রবণ শিল্পীরা ভাবি,তাহলেই হবে একাত্ত্ববোধ,যা সমাজের এই চরম দুর্দিনে যোগাবে দেশকে সাহস।আসুন,আমরা প্রতি সপ্তাহের রবিবার এই যজ্ঞের আয়োজন করি।সকলে বাড়িতেই থাকুন।বাড়িতেই চলুক এবং অধ্যায়ের সাপ্তাহিক পাঠ।
_______________________________________
যা যা আছে
- কবিতা
- অণুগল্প
- গল্পের ছলে
- প্রবন্ধ সম্বন্ধীয়
- গদ্য
- ঘুরে আসি
- কবিতা
- প্রবন্ধ সম্বন্ধীয়
____________________________
কবিতা
ভয়
অসীম ভট্টাচার্য
সময়ই এসব সারায়
পৃথিবীকে ঘিরেছে যে ত্রাস
করোনা ভাইরাস
তার ভয় আতঙ্কিত করেছিলো,
এখন এড্রিনাল সেই ভয়ও স্তিমিত করেছে যেন।
প্রত্যক্ষ করেনি যারা মহামারী মৃত্যু মিছিল,
যারা তার স্বরূপ দেখে নি,
তারা আজও দেওয়ালি সাজালো অন্ধকারে।
#
প্রত্যক্ষ করতে হবে সব? যাকে ঠেকে শেখা বলে!
নাহলে, অজীর্ণ ভয়ে শুধু এড়াই মুখরোচক!
ভুলে যাই হজম হলেও হৃৎপিণ্ড বিকল করতে পারে।
__
_______
মন কাহিনী
শুভজিৎ বোস
মন খারাপের দেয়ালে বৃষ্টিটা যেন একটু বেশিই প্রভাব ফেলছে
বৃষ্টি ঝরছে তো ঝরেই যাচ্ছে !
মনেরও তো ইচ্ছে করে একটু শরতের রোদ নিয়ে ভাববার!ও যে বড় সুন্দর !রঙিন পেখম মেলে সকালকে প্রতিদিন আহ্বান করে।
সূর্য-শিশির নিয়েও ও ভাবতে চায়,লেখি শিশিরে শিশিরমাখা সোনালী শীতে ভোরের সূর্য কাহিনী।
ও ভাবতে চায় স্বপ্ন-শালুকের পাতায় রাতের বৃষ্টিকণাগুলি রূপোলি হয়ে রোদ্দুরের সাথে মিশে যাচ্ছে।
সংকল্পের শশীজোছনায় নবীন ইস্তেহার লিখছে ইতিহাসের টেবিল।
ভূ-অধ্যায়ে সৃষ্টির গোপন রহস্যে মেতে উঠছে জীবন-যৌবন।
অমাবস্যার অন্ধকারে ঝুলছে অসহায় ঝুল-বারান্দা!
সত্যের চাবুকে হিংসেবিকেল মুখ থুবড়ে পড়েছে ভবিষ্যতের দোহাইয়ে।
গ্রামীন মেঠো পথে বিছানা বিছিয়েছে শহরের ক্লান্ত যোদ্ধারা,
কোজাগরীর রাতে জোৎস্নাগুঁড়ো পৃথিবীর শোক মুছছে মোলায়েম কাপড়ে।
__________
জেগে থাকে করোনা দূরত্বে
প্রশান্ত ভট্টাচার্য
মানুষের অসুখ হলে ঈশ্বর কোয়ারেন্টাইনে
প্রিয়সখা নিদ্রা যান অনন্তশয্যায়।
খিলানের ভিতর পড়ে থাকে জোব্বা
সামারসল্টের নানা কামজ মুহূর্ত
নগ্নতর, নির্মম অসীম।
রাষ্ট্রপতি লিখিত ভাষণ পড়ে আমলকি বনে।
পুষে রাখা অপমানে পাজামার কষি
আলগা হয় গাড়ি বারান্দার নিচে।
নাচতে নাচতে অসুখটা পৌঁছে যায়
শহরের শেষে, নিরপেক্ষ অপেরায়
বন্ধ মল, দেবালয়, নিষিদ্ধপল্লির সিংহদুয়ার
জুয়েলের নাইট ক্লাব, পল্টুর মিড ডে মিল।
প্রবেশ নিষিদ্ধ হয় নিমতলা মহাশ্মশান,
বাগমারির গোরস্থানে।
বন্ধ থাকে সঙ্গম ও আগেপরে নিষিদ্ধ চুম্বন
মানুষের অসুখ হলে ঈশ্বর পিঠ টান দেয় আধাসামরিক বাহিনীর ভারী বুটের তলায়
চাপা পড়ে জীবনানন্দ সরণির সিন্ধুসারস
অ্যাসফল্টের স্বাভাবিক শ্বাসক্রিয়া।
কোয়ারেন্টাইনে যায় বাঁধা মেয়েমানুষ
আত্মরতি ছাড়া মোক্ষ নেই করোনাভাইরাসে।
স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি মোহনদাস তড়াগের রাজহাঁস
কক্ষচ্যুত উপপত্নীদের রিপোর্ট নেগেটিভ দেখে
মেয়েমানুষের আদর নিয়ে বরখাস্ত কোটাল
মাঝরাতে জাবর কাটে মাঝেরহাটে।
মানুষের অসুখ হলে ঈশ্বর ছোঁয়াছুঁয়ি
বাঁচিয়ে চলেন
বারবার হাত ধোন স্যানিটাইজারে।
মানুষের অসুখ হলে মানুষ শুধু
জেগে থাকে করোনা দূরত্বে।
___________
স্বাদ
শক্তিপ্রসাদ ঘোষরাস্তায় দাড়িয়ে কিছু অন্ধ,কিছু সাবধানি লোক,তখনও দৃশ্য দেখছে। মৃত্যুটা হয় কিনা।আগুনে জলন্ত মজ্জা কেঁদে যাচ্ছে
বারবার। দূরত্তের সীমানা রেখে আমিও
সমান্তরাল ভাবনায় মসগুল। রোদে পোড়া
সবুজ গাছ গুলো ঠায় দাড়িয়ে।চারপাশে ছোট ছোট পাখিদের সাবধান বাণী। ইনফ্লুয়েঞ্জার দাপটে গলায় জমে আছে ক্লান্ত বাতাস। রাতের সঙ্গী চাঁদ, সুর তোলে,কুয়াশা কেটে যায়।বাতাসে উড়ে আসে লবনাক্ত স্বাদ।ধান ঝাড়াই শুরু হয়।
__________
আকাশ কন্যা
তন্ময় দে বিশ্বাস
পূবের পথে একপা দুপা গিয়ে,
তাকিয়ে দেখি মেঘবালিকা হয়ে,
আসছে ছুটে এ কোন গাঁয়ের মেয়ে !
আঁচল খানা জড়িয়ে কোমর ঘিরে,
টেনে তোলা খেটো শাড়ির পাড়-
আসছে ছুটে টগবগিয়ে ধেয়ে,
সামনে সকল তুচ্ছ অহংকার,
শুধাই তারে- এই মেয়েটা, কোথায় থাকিস? দস্যি, পাজি, খুবতো বদের ধারী !
খিলখিলিয়ে বললো উঠে মেয়ে, জানো,আমি আকাশ ছুঁতে পারি?
দেখবে ? বলে হাতদুখানা তুলে,
বনবনিয়ে চরকিপাকে ঘোরে
আকাশটা তার হাতের মুঠোয় একি!
তার সাথে মেঘ সত্যি খেলা করে !
খেলরে মেয়ে মেঘের সাথে খেলা-
আকাশ জুড়ে জয়ের আসন পাত-
তুই জগতের সৃষ্টি প্রলয় জুড়ে,
আদি থেকে অনাদি সংঘাত,
বলে উঠি - এই মেয়েটা থামতো এবার- একলা ঘুরিস, কোনখানে তোর বাড়ি ?
অবাক করে বললো মেয়ে হেসে, জানো,আমি বৃষ্টি হতে পারি ?
এইনা বলে, এলোকেশী মেয়ে,
দোলায় মাথা সামনে পিছন ঘিরে
ধানের শিষের ডগায় জমা শিশির,
চুলের ঘায়ে বৃষ্টি হয়ে ঝরে-
ঝররে মেয়ে বৃষ্টি ফোঁটা হয়ে,
স্নিগ্ধ শীতল করকা বাদল হেনে-
কান্নাতে তোর আকাশ টলোমলো,
তোর আবাহন নবান্নে পার্বণে,
কাটলো অনেক সময়, বলি- এবার আসি- দুইজনাতে একটু ছাড়াছাড়ি-
হঠাৎ কেমন চেঁচিয়ে ওঠে মেয়ে, দেখো, কেমন দুর্গা হতে পারি !
কোমর থেকে আঁচল খানা খুলে,
বনবনিয়ে ঘুরলো দু চার পাক-
রক্তাভ গাল রক্ত বরণ চোখ,
বিভঙ্গে তার অসুর নিধন ডাক,
থাক মেয়ে তুই দুর্গা কালী হয়ে,
দেবী রূপেই আসন যে তোর পাতা
বাঁচবি নিজে বাঁচাবি সব জনে,
তুই জগতের সবার পরিত্রাতা ।।
___________
ঘর
দেবাশিস রায়ঘর পেতেছি ঘর,আমার মনে
অনেকখানি রাস্তা হাঁটার পরে;
কবিতা শোনাবো দুইটি প্রহর গুনে--
তুমিও এসো মন-মোহনায় কাব্যরে প্রান্তরে!
আজকে না বলে দিও কামনা'রে--
বসুক গিয়ে অন্য কোন ঘরে;
আমার গানের ভাউলিয়া আজ ব্যাক্তিগত সুরে--
তুমি তখন হৃদয় ছুঁয়ো আদরের রোদ্দুরে!
__________
এ এক কল্পান্তের মোড়ে
শুভাশীষ দত্তএ এক কল্পান্তের মোড়ে আমরা সবাই।
বিচ্ছিন্ন, রোগগ্রস্থ, আতঙ্কে
সাদা হয়ে চামড়া শুকিয়ে যেতে থাকা
কোটি কোটি মনুষ্যশাবক
একদিন পৃথিবীকে সবার বাসযোগ্য ক'রে যাবার
অঙ্গীকার বুকে নিয়ে
আজ তীব্র মারণশেল গেঁথে নিয়েছি
এ বুকেই ; পৃথিবী আজ কারো বাসযোগ্য নয়,
পৃথিবী আজ তিলে তিলে নষ্ট হতে চলা
কোনো এক ঐশ্বর্যবান নগর
যার চোখে মুখে ভয়
যার প্রাচীন সমুদ্রকিনারে
আমি
এক সূর্যাস্তের বেলাতটে ব'সে একমনে
বাঁশিতে তুলে নিই
আগামী পৃথিবীর সুস্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের সুর।
__________
অবসরের কবিতা
শুভদীপ দে
মূর্তির চোখে বিন্দু বিন্দু জল ,
জানি তুমি দেখতে পাওনি !
অবসরে কফিতে চুমুক দিয়ে
দূরবীনে চোখ রেখো ,
জল কিন্তু
পাথর হয়ে জমাট বাঁধবেই
_________
স্বপ্ন ৫
দীপাঞ্জন দাস
দিগন্তের পথে ভেসে চলেছে নৌকাজীবন। কিছু
মরা গাছের ছায়া নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে মাঝি।
সপ্রতিভ তরঙ্গের তুফানে চুল আচড়াচ্ছে সভ্যতা।
সারি সারি মূর্তির আবহে জোৎস্না-জন্ম খুঁজে পেতে
চেয়েছে অভিমানী দুপুর। কিছু উচ্চারণ, বিড়ির
হাওয়া, হাতের রেখা মুছে দিয়েছে। পানকৌড়ির
মত ডুব দিয়ে খুঁজে চলেছি আমার পোড়ো ঘর,
প্রবাহিত নির্জন সুর...
__________
সিংহাসন
বদ্রীনাথ পাল
অনেক হলো সহ্য, এবার মানবো নাতো আর-
মিশিয়ে দেব ধুলোয় তোদের গর্ব অহংকার।
এতোদিন যা করলি তোরা,যা ভুলে যা সব,
তোদের বুকের রক্ত দিয়ে করবো মহোৎসব।
তাঁবেদারি করতে গিয়ে ঝরলো যত ঘাম-
বুঝিয়ে দেব এবার তোদের তার কি পরিনাম !
যে হাত দিয়ে বাঁধলি
শেকল,করলি কশাঘাত-
ভাঙবোই তোর সে হাত দুটো,করবো কুপোকাত্।
ভাই ভগ্নী হারিয়ে গেল, কি ছিল তার পাপ,
কোন্ দোষেতে মা মরেছে,মরলো পুড়ে বাপ ?
ভিটে মাটি বিকিয়ে গেল কোন্ সে দেনার দায়-
কি অপরাধ হল?কেন বুক করে হায় হায় ?
সব নিয়েছিস্ কেড়ে আমার, কি দিয়েছিস্ বল্-
পাওনা শুধুই স্তোক বাক্য এবং চোখের জল ?
করবো না আর তোর গোলামী এই করেছি পণ,
দেখব কেমন বজায় রাখিবার পাপের সিংহাসন !!
_______________
মোমবাতি ও প্রেম
পিনাকী
এক অদ্ভুত অন্ধকারে
মোমবাতি ধরিয়েছি
গলে যাচ্ছে সাদা মোম,
মানুষের কানে ফিসফিস
করে বলে-
রাত বাকি ঢের
হাতে মোম জ্বালাও ৷
আজ দীপাবলী নয়,আজ
বাহুবলী সিনেমার একশ দিন
পূর্ণ হওয়ার উৎসব নয়, তবুও
হাতে মোমবাতি নাও,ধরাও
মোমের আলো তোমার মুখে
প্রেমিকার যৌন লালা হয়ে
মেখে যাক,
নরম- নরম
মোম গলতে থাকুক
প্রেমিকের নখের দাগ,
প্রেমিকার নরম স্তনে,
জিহবায় ,ঠোঁটে,গলায়
অথবা কোমরে ,
মোমের মতন নরম- গরম
উষ্ণতা পাবে ৷
অন্ধকারে শুয়েছে যে পুরুষপ্রেমিক,
তার শরীরে পোষাক নেই৷
যে নারী নিজের নগ্নতার আশ্রয়
দিয়েছে পুরুষের যৌনতাকে,
তাকেই আমি
মোমবাতি বলছি৷
মোমবাতি জ্বলে উঠুক
শহরে -শহরে
গ্রামে -গ্রামে অথবা
নবান্ন,মহাকরণে ...
মোমবাতি জ্বলুক
ভালো ,মন্দ,
দ্বিধায়
অথবা অন্ধকার
গলির কোণায় ৷
সিঁড়ির ধাপেতে ,
পা
পেতে
পেতে ,
যে নারী
নরম পাতায় ভর দিয়েছে ,
ধীরে ধীরে,
তার পায়ের তলায়
প্রেমিকপুরুষ
জিভ দিয়ে চেটে দেবে দ্বিধাহীন ভাবে৷
মোমবাতি
গলতে -গলতে মেখেছে
আমাদের হাতের তালুতে৷
রাত শূন্য রাতে,
ছাদে ছাদে জ্বলে
উঠুক
সাধের মোম
অনেক দিন
চুমুর বদলে
চুমু দিইনি আমরা৷
অনেক দিন
প্রেমিকার ঝুলে
থাকা স্তন ,
চুষে দিইনি আমরা,
মোমবাতি
জ্বলেছে,
পুড়েছে,ঝরেছে ৷
মোম গলে যায়,
ঘরে একা একা
কাঁদে অবহেলিত
নারী ;
শহরে যে মোম পুড়ে যায়,
আমরা পুরুষেরা
খবর রাখিনি !
এই শহরে আমরা
আনাড়ি ৷
মোমবাতি সারা রাত এসো
উদদাম যৌনতায়
মেতে থাকি, এই কালো রাতে
আমরা
আদিম
নর আর নারী৷
আজ মোমবাতি
জ্বালায়নি
যারা,সবাই হিংসাকে
পাশবালিশের মতন ,
পাশে নিয়ে ঘুমোচ্ছে
নাক ডাকছে৷
তারা প্রেমকে দিয়েছে
নির্বাসন৷
পথে পথে নয়-
বাড়ির উঠানে,
ছাদে,কিম্বা রাস্তার ধারে,
ঝুপড়িতে , কুড়ে ঘরে
অথবা
মাঠের ধারে
তুলসি মঞ্চে ,
আজ মোমবাতি
জ্বালানো
প্রয়োজন৷
_____________________________________________
![]() |
| বিজ্ঞাপণী সহযোগিতায় |
GHOSE'S OPTIC CORNER
Akhon bazar,
Chuchurah,
Hooghly,
712101 ___________________________
Hooghly,
712101 ___________________________
অণুগল্প
যৌবন তরী
নিত্যানন্দ সিংহ
এক অকাল শ্রাবণে, নিশিত শেষে যখন ভোর,কৃষ্ণ মেঘের অন্তরালে সূর্যের মৃদু আলোয় উনিশ বছরের অনিন্দ্য প্রথম দেখতে পেলো,বৃষ্টি ভেজা রাস্তার এক নির্জনে ছাতা হাতে দাড়িয়ে থাকা ষোলো বছরের এক রূপসী তরুণীকে।অনিন্দ্য নির্বাক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে, সত্যিই তরুণীটি অতি সুন্দর, হাল্কা বৃষ্টির আস্তরণকে ভেদ করে অনিন্দ্য দেখতে পেলো মেয়েটির পরনে হালকা নীল - সবুজ রঙের সালোয়ার আর সাদা রঙের ওড়নাই বাদামি রঙের ছোটো ছোটো পুঁথি, বেশ সুন্দর একটি ওড়না মাথার উপর থেকে গলায় জড়িয়ে রেখেছে, তার কোমল সুন্দর কাঁধ পর্যন্ত ঘন কালো চুল,সেটা খোলা অবস্থায় ছিলো,হাতে ছিল রঙিন কাঁচের চুড়ি। হঠাৎ টোল খাওয়া মুখে সে দেখলো মধুর হাসি,কিন্তু হাসিটা অনিন্দ্যর জন্য নয়, হাসিটা তার পিতার জন্য। যিনি নিতে এসেছেন তার কন্যাকে এক পুরাতন বাইসাইকেলে।পিতা তার মেয়েকে ডাকতে লাগলো গীতিকা - গীতিকা বলে।অনিন্দ্য নামটি কর্ণপাত করা মাত্রই অন্যমনস্ক হয়ে কিছু ভাবছিল, কিন্তু ভাবা শেষে যখন সে রাস্তার দিকে তাকালো তখন সে দেখতে পেলো সবই একি রকম আছে, শুধু নেই সেই তরুণীটি যে তরুনীটিকে নিয়ে সে এতক্ষণ মনে মনে নানান চিত্র আঁকছিল।
বৃষ্টি থেমে গেল, তবু মিটলো না অনিন্দ্যর দেহের তৃষ্ণা। এই প্রথম অনিন্দ্যর কোনো একটি মেয়েকে ভালো লেগেছে।
অনিন্দ্য ছিলো কিষানগঞ্জের এক ধনী ব্যাক্তির প্রিয় আদরের সন্তান। অভাব বোধ বলতে তাদের সংসারে কিছুই ছিলো না, অবশ্য অনিন্দ্য ছিলো বেশ সুন্দর দেখতে,এলাকার প্রতিটা মানুষ তাক স্বস্নেহে ভালোবাসতো, তার আচার, আচরণ , ব্যবহার, রীতি- নীতি দেখে সকলেই মুগ্ধ। কিন্তু জীবন তরীর গতিকে সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি, সে যৌবন প্রেমের স্রোতে নিজেকে সমর্পণ করেছে। তরুনীটির নিটোল মুখের মধুর হাসির আন্দোলন আর স্ফটিকময় দৃষ্টির প্রজ্বলন গীতিকার প্রতি অনিন্দ্যকে আকর্ষিত করে তুলেছে, দিবা- রজনীর স্বয়ন- স্বপনে অনিন্দ্যর চোখে ভাসে সেই প্রথম অধিষ্ঠান তবুও অনিন্দ্য গীতিকা হতে বঞ্চিত।
বছর যাই, কেটে যায় মাসের অনেকটা দিন, বিলীন হতে থাকে সেই অতুষ্ট স্মৃতি, তবুও অনিন্দ্য গীতিকাকে খুঁজে যাই।
একদিন গোধুলির বিচিত্র রঙে সূর্যের গোলীত লাভায় অনিন্দ্য দেখলো অনিল সেতুর উপর রীতিকাকে।
গীতিকা অনিল সেতুর উপর থেকে বয়ে যাওয়া নদীর স্রোতকে ভাবুক মনে দেখছে, এমন সময় অনিন্দ্য তার কাছে যেতে চাইলে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এক আচমকা বিদ্যুতের ঝলকানির মত ধেযে আসা একুশ বছরের যুবক। এমন এক মনোরম দৃশ্যের মাঝে অনিন্দ্য গীতিকার খুব কাছে যেতে চেয়েছিল,কিন্তু ব্যর্থ, স্থির পাথরের মত এক স্থানেই সে দাঁড়িয়ে পড়লো, আর সেই বয়ে যাওয়া যাওয়া নদীর মত গীতিকাও তার প্রেমিকের হাত ধরে মিশে যেতে লাগল পশ্চিমের দিগন্তে। আর তাদের মুখে ঢোলে পড়ছিল জোস্নার মৃদু হাসি।
অনিন্দ্য প্রথম কাউকে ভালোবাসতে চেয়েছিলো, ভালোবাসা কি বুঝতে চেয়েছিলো, নতুন করে স্বপ্ন দেখতে চেয়েছিলো, কিন্তু স্বপ্ন দেখার আগেই সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। মনের অব্যক্ত যন্ত্রনার কথা সে কোথাও প্রকাশ করতে পারলো না।জগতের বুকে সে বড়ো একা, সেই মনোরম বিকেলের দৃশ্য তখন তার কাছে বিষন্ন হতে লাগলো, সেই মহূর্তে সে নিজেকে বড়ো অসহায় মনে করে, তাই সে গহীন অন্ধকার আসার আগেই সূর্যাস্তের সাথে সাথে নিজেকে বয়ে যাওয়া নদীর স্রোতের সাথে নিজেকে মিশিয়ে দিলো।
ঘাটে তরী বাঁধিলেম না
ভাসিয়ে দিলেম স্রোতে,
ভেঙেছে নদীর পার
তার আঘাতে আঘাতে।
____________________________
BHARATI
ph-(033)-2680-5135
______________
যমরাজ্যের বাজেট ২০২০
দিলীপকুমার মিস্ত্রী
যমরাজের সবচেয়ে কাছের পারিষদ চিত্রগুপ্ত। কিন্তু পদমর্যাদা অনুযায়ী তার মাসোহারা অর্থমন্ত্রীর চেয়ে অনেকটাই কম। ওই পাঁচ হাজার সাত টাকা। এ’নিয়েও তাকে গিন্নির অনেক খোঁটা শুনতে হয়। কিন্তু চিত্রগুপ্ত এবার চিত্রটা বদলাতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এদিকে রাজসভায় বাজেট অধিবেশন চলছে।
যমরাজ- অর্থমন্ত্রী, তুমি বাজেট কিছুটা কাটছাঁট করেছো তো ? রাজকোষের হাল তো সংকটজনক।
অর্থমন্ত্রী- রাজন, যথাসম্ভব পূর্ববৎ রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু একটি কারণে বাজেট সামান্য বেড়ে গেল।
রাজা- বেড়ে গেল মানে ? বিদেশে গিয়ে, তুমি কী টুকে অর্থশাস্ত্রে ডিগ্রী অর্জন করেছ ? ওটুকু কমানোর বুদ্ধি তোমার ঘটে নেই ?
অর্থমন্ত্রী- আজ্ঞে রাজন, অনেক চেষ্টা করেও পারলাম না। অবশ্য এরজন্য সম্পূর্ণরূপে দায়ী চিত্রগুপ্ত।
যমরাজ- চিত্রগুপ্ত, তুমি কী আমার স্বপ্নরাজ্যে মৃত্যুঘন্টা বাজাতে চাও ? বলি,তোমার ইচ্ছেটা কী ?
চিত্রগুপ্ত- আজ্ঞে রাজন, আমি নিরূপায়। মর্ত্য থেকে আগতদের হিসেব রাখতে আমি এতোদিন একটিই খাতা ব্যাবহার করে এসেছি। কিন্তু এখন আর সম্ভব নয়। তাই আর একটি খাতা এবং কয়েকজন চৌকিদার নিয়োগ বাবদ, অর্থমন্ত্রীকে বাজেটে সামান্য বরাদ্দ করতে বলেছি।
যমরাজ- বল কী ! তোমার আর একটি খাতা,আবার চৌকিদার নিয়োগ মানে তো- বিরাট অংক ! কতো নম্বর খাতা যেন তুমি ব্যাবহার কর, ২১৯৯৯ ? আর চৌকিদারের প্রয়োজন কেন পড়ল শুনি ?
চিত্রগুপ্ত- রাজন, মর্ত্যে সম্প্রতি বহু মানুষ মারা যাচ্ছে নতুন একটি রোগে। রোগটি মারাত্মক ছোঁয়াচে। এদের হিসেব আলাদা করে রাখতে তাই নতুন একটি খাতা প্রয়োজন। তাছাড়া, তারা যাতে সাধারণের মধ্যে না ঢুকে পড়ে; দূরত্ব তৈরি এবং নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। শুধু সাধারণের কথা ভেবে তো নয়। আপনার সুরক্ষার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে। খবরাখবর আসছে, মর্ত্যের বিভিন্ন দেশে, রাজা-রাজপুত্র-রাজকন্যা-মন্ত্রীরাও ধরাশায়ী। তাই - - -
যমরাজ- সত্যি চিত্রগুপ্ত, তুমি সত্যিই আমার পরম হিতৈষী। অর্থমন্ত্রী, তুমি চিত্রগুপ্তের মাসিক-ভাতা আরও ১৯৯৯৯ করে বাড়িয়ে দিতে বাজেটে সংস্থান রাখো। সাধারণের ওপর আরও একটু চাপ পড়বে ঠিকই। তবু আমাকে এটুকু করতেই হবে। চিত্রগুপ্ত রাজ্যের মঙ্গলে কতো চিন্তা করে বলতো ? তা চিত্রগুপ্ত,সে রোগটির নামটি কী ?
চিত্রগুপ্ত- আজ্ঞে, ভয়াল-ভয়ংকর- করোনা !
___________________________________________
SANTANA CREATIONS
SAREE,KURTI,BOUTIQE & HANDLOOM
(M)-9433770765
_____________________
বড়লোক
রাজকুমার সরকার (ঝাড়খন্ড)
সুবলবাবু, অনেকদিন থেকে আমাকে লক্ষ্য করেই চলেছেন। এবারে এক সাহিত্য অনুষ্ঠানে শেষে বলেই ফেললেন- আচ্ছা রাজকুমারবাবু, আপনাকে ঠিক বুঝতে বা জানতে পারছি না ।ব্যাপারখানা একটু খুলে বলুন তো, যেখানেই দেখছি আপনাকে; সেখানেই আপনি কাউকে না কাউকে বই উপহার দিচ্ছেন.....
কিভাবে সম্ভব?
আপনি টাকা চাইছেন না।
বই ছাপাতে তো প্রচুর খরচ হয়;কিভাবে এইসব কাজ করেন?
আমি মুচকি হেসে বললাম- এখন বলবো না পরে একদিন বলবো আপনাকে.....
না; আপনাকে আজই বলতে হবে আমার জানার খুব কৌতূহল.....
বলবো। নিশ্চয়ই বলবো।
আজ আপনাকে বলতেই হবে?
আপনি খুব বড়লোক?
না হলে এ'কাজ সম্ভব নয়।
সুবলবাবু, আপনি ভুল বললেন। আমি বড়লোক নই।হ্যাঁ তবে মনের দিক দিয়ে আমি খুব বড়লোক।
বইগুলো মানুষদের পড়ার জন্য।ছেপে বাড়িতে রাখার জন্য নয়...
তাছাড়া ভারতবর্ষজুড়ে অনেক মানুষ আমায় ভালোবাসেন আর ভালোবাসেন বলেই আমিও ভালোবাসা ছড়িয়ে চলি....
সুবলবাবু শেষে আমাকে কি বলবেন ভেবে না পেয়ে বললেন- আপনার জয় সুনিশ্চিত। এগিয়ে চলুন এই বলেই একটি দশ হাজার টাকার চেক কাটলেন....
সুবলবাবু, অনেকদিন থেকে আমাকে লক্ষ্য করেই চলেছেন। এবারে এক সাহিত্য অনুষ্ঠানে শেষে বলেই ফেললেন- আচ্ছা রাজকুমারবাবু, আপনাকে ঠিক বুঝতে বা জানতে পারছি না ।ব্যাপারখানা একটু খুলে বলুন তো, যেখানেই দেখছি আপনাকে; সেখানেই আপনি কাউকে না কাউকে বই উপহার দিচ্ছেন.....
কিভাবে সম্ভব?
আপনি টাকা চাইছেন না।
বই ছাপাতে তো প্রচুর খরচ হয়;কিভাবে এইসব কাজ করেন?
আমি মুচকি হেসে বললাম- এখন বলবো না পরে একদিন বলবো আপনাকে.....
না; আপনাকে আজই বলতে হবে আমার জানার খুব কৌতূহল.....
বলবো। নিশ্চয়ই বলবো।
আজ আপনাকে বলতেই হবে?
আপনি খুব বড়লোক?
না হলে এ'কাজ সম্ভব নয়।
সুবলবাবু, আপনি ভুল বললেন। আমি বড়লোক নই।হ্যাঁ তবে মনের দিক দিয়ে আমি খুব বড়লোক।
বইগুলো মানুষদের পড়ার জন্য।ছেপে বাড়িতে রাখার জন্য নয়...
তাছাড়া ভারতবর্ষজুড়ে অনেক মানুষ আমায় ভালোবাসেন আর ভালোবাসেন বলেই আমিও ভালোবাসা ছড়িয়ে চলি....
সুবলবাবু শেষে আমাকে কি বলবেন ভেবে না পেয়ে বললেন- আপনার জয় সুনিশ্চিত। এগিয়ে চলুন এই বলেই একটি দশ হাজার টাকার চেক কাটলেন....
_____________________________________________
![]() |
| বিজ্ঞাপণী সহযোগিতায় |
OVERALLCAD
Ph-(033)-2680-0073
(M)-9038731482
Website- www.overallcad.com
E-mail- info@overallcad.com
Website- www.overallcad.com
E-mail- info@overallcad.com
_____________________________________________
প্রবন্ধ সম্বন্ধীয়
নববর্ষের পরব
সিদ্ধার্থ সিংহ
পয়লা বৈশাখ নিয়ে এখন যতই মাতামাতি হোক, পুজো দেওয়ার জন্য ভোররাত থেকে যতই ভিড় উপচে পড়ুক কালীঘাট-দক্ষিণেশ্বরে,মহাধুমধাম করে যতই হোক হালখাতা,বাড়িতে-বাড়িতে যতই রান্না হোক ভালমন্দ, বড় বড় ফুটবলক্লাবগুলো যতই মেতে উঠুক বার পুজোয়,সাজ সাজ রব পড়ুক বইপাড়ায়,সোনার দোকানিরা যতই মজুরিতে ছাড় দিক৫০%-৬০%,
গ্রহরত্নের ওপর১০%-২০%,সকাল থেকে যতই মেতে
উঠুক বাঙালিরা--- এই পয়লা বৈশাখের রমরমা কিন্তু খুব বেশি দিনের নয়।হিসেব অনুযায়ী বাংলা অব্দ হাজার দেড়ের বছরের পুরনো হলেও এটা কিন্তু উৎসবের রূপ নিয়েছে এ দেশে ইংরেজ আসার পর থেকে। পলাশি যুদ্ধের পরে ইংরেজদের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র হয়ে ওঠে কলকাতা। তখন জীবিকার সন্ধানে গ্রামগঞ্জ থেকে দলে দলে লোকেরা আসতে থাকেন এই শহরে। গড়ে উঠতে থাকে দোকান-পাট, ব্যবসা-বাণিজ্য। বাঙালিরাও উঠেপড়ে লাগলেন। তাঁরাও হয়ে উঠলেন পাক্কা ব্যবসায়ী। কেউ কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে, ইংরেজদের বদান্যতায় হয়ে উঠলেন জমিদার।
এই সময় বাঙালিবাবুরা তাঁদের ‘প্রভু’ ইংরেজদের ইংরেজি বছরের শেষ দিন, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যরাত থেকে হই-হল্লোড় করে ‘নিউ ইয়ার’ পালন করতে দেখে, উৎসাহিত হন। এবং তাঁদের অনুকরণ করেই বাংলা বছরের প্রথম দিনটিতে নাচ-গানের মজলিস বসাতে শুরু করেন।
ওই সব আসরে আসতেন বাগবাজার, শোভাবাজার, পাথুরিয়াঘাট, জোড়াসাঁকো, চোরবাগান থেকে ফুলবাবুরা। চুনট করা ধুতি, আদ্দির পাঞ্জাবি আর সারা গায়ে আতর মেখে। ঘোরায় টানা টমটমে চরে।এই সময় বাঙালিবাবুরা তাঁদের ‘প্রভু’ ইংরেজদের ইংরেজি বছরের শেষ দিন, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যরাত থেকে হই-হল্লোড় করে ‘নিউ ইয়ার’ পালন করতে দেখে, উৎসাহিত হন। এবং তাঁদের অনুকরণ করেই বাংলা বছরের প্রথম দিনটিতে নাচ-গানের মজলিস বসাতে শুরু করেন।
রাজসিক খাওয়াদাওয়ার সঙ্গে চলত কালোয়াতি গান, কোথাও কোথাও হত বাঈজির নাচ। সেই সব বাঈজিদের আনা হত শুধু বাংলা নয়, বাংলার বাইরে থেকেও। কে কোন নামজাদা খানদানি বাঈজিকে আনতে পারেন, সেই নিয়েও চলত রেষারেষি।
কেউ কেউ বলেন, সে যুগের বিখ্যাত সংবাদপত্র ‘সংবাদ প্রভাকর’-এর সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তই নাকি ছিলেন এই নববর্ষের মোচ্ছবের মূল হোতা। তিনি নাকি বাংলা নতুন বৎসর উপলক্ষ্যে সংবাদ প্রভাকরের আলাদা একটা বিশেষ সংখ্যাও প্রকাশ করতেন।
যদিও বাংলা সন বা অব্দ, যাকে বলে--- বঙ্গাব্দ, সেটা যে কে প্রথম চালু করেছিলেন এবং কবে থেকে তা বলবৎ হয়েছিল, তা নিয়ে বিস্তর মতভেদ আছে।
সাধারণত কোনও রাজা বা সম্রাটের রাজ্যাভিষেকের দিন, কিংবা তাঁর কোনও বড়সড় জয়ের কীর্তি, অথবা কোনও ধর্মীয় নেতার জন্মগ্রহণ, নয়তো তেমন উল্লেখযোগ্য কোনও ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতে অব্দের প্রচলন হয়। যেমন যিশুখ্রিস্টের জন্মকে কেন্দ্র করে গণনা করা হয় খ্রিস্টাব্দ, বা হজরত মহম্মদের মক্কা থেকে মদিনা যাত্রার সময় অর্থাৎ ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ১৬ জুলাই থেকে গণনা করা হয়--- হিজরি অব্দ।
![]() |
ছবি : তথ্যসূত্র
|
এই ভাবেই এক সময় এই দেশে রমরম করে চালু হয়েছিল
বুদ্ধ নির্বাণ--- বুদ্ধাব্দ, মহাবির নির্বাণ--- মহাবীরাব্দ, ভাস্করাব্দ,
শকাব্দ, শঙ্করাব্দ, চৈতন্যাব্দ, কলাব্দ, বার্হস্পত্যবর্ষ, বিক্রম
সংবৎ-এর মতো বহু অব্দ। যদিও চালু হলেও তেমন ভাবে
ব্যবহার না হওয়ায় কালের নিয়মে তা ধীরে ধীরে ব্রাত্য হয়ে গেছে।
এগুলোর মধ্যে একমাত্র টিকে আছে--- শকাব্দ।
ভারতের জাতীয় বর্ষপঞ্জি বলেই হয়তো!
কারও কারও মতে, সপ্তম শতাব্দীর বাংলার প্রথম
দিকের রাজা শশাঙ্কই নাকি প্রচলন করেছিলেন বঙ্গাব্দের।
যদিও এর স্বপক্ষে তেমন কোনও জোরালো ঐতিহাসিক
তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় না। আর তিনি যদি প্রচলন করেও
থাকেন, তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই কিন্তু সেই বর্ষ গণনাও
অস্তমিত হয়ে গিয়েছিল।
ইতিহাস ঘেঁটে যে তথ্য পাওয়া যায়, সেটা হল--- সম্রাট আকবর তাঁর জ্যোতির্বিদ ফতুল্লাহ সিরাজিকে একদিন আদেশ দিয়েছিলেন, ইসলামিক চন্দ্র ক্যালেন্ডার আর হিন্দু সৌর ক্যালেন্ডার--- এ দুটিকে মিলিয়ে মিশিয়ে নতুন একটি ক্যালেন্ডার তৈরি করার জন্য। কারণ, তখন হিন্দু আর মুসলিম ক্যালেন্ডারের মধ্যে বারো দিনের একটা ফারাক ছিল। সে জন্য বাঙালিদের কাছ থেকে কর সংগ্রহ করতে নানা সমস্যা হত। এর ফলে, ওই দুটো ক্যালেন্ডারকে মিশিয়ে ফতুল্লাহ সিরাজি যে নতুন বাংলা ক্যালেন্ডার তৈরি করলেন, তার নাম রাখা হল--- ফসল-ঈ-শান। অর্থাৎ, ভাল ফসলের বৎসর। প্রথমে ওই নামে সনটিকে অভিহিত করা হলেও পরে তা আস্তে আস্তে ‘বঙ্গাব্দ' নামেই পরিচিত হয়। সুতরাং ধরেই নেওয়া যায়, যে যা-ই বলুক না কেন, আসলে সম্রাট আকবরের সময় থেকেই বাংলা সনের প্রবর্তন হয়েছিল।তখন এত চ্যানেল ছিল না। সাকুল্যে একটাই চ্যানেল, তার নাম--- দূরদর্শন। এই দূরদর্শনই অন্যমাত্রা যোগ করেছিল পয়লা বৈশাখে। কলকাতা শাখা শুরু করেছিল--- নববর্ষের বৈঠক। কোন শিল্পী আসেননি সেখানে? শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটা এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে, লোকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল এই অনুষ্ঠানের কথা। সকাল হলেই লোকে সব কাজ ফেলে বসে পড়তেন টিভির সামনে।
তারও অনেক আগে হাজরা মোড়ের বসুশ্রী সিনেমার মন্টু বসু পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে বসুশ্রী হলে শুরু করেছিলেন বৈশাখী অনুষ্ঠান। তার টিকিটের জন্য আগের দিন রাত থেকেই লম্বা লাইন পড়ে যেত। একটা টিকিটের জন্য সে কী হাহাকার।
তবে এই বাংলা নববর্ষের সব থেকে বড় প্রাপ্তি হল--- বাংলা বর্ষপঞ্জি। মানে পঞ্জিকা। অন্যান্য প্রচলিত অব্দগুলোর মতো বঙ্গাব্দেও বারোটি মাস আছে। কিন্তু দিনের সংখ্যাগুলো ইংরেজি ক্যালেন্ডারের মতো নির্দিষ্ট নয়।কারণ, তিথি নক্ষত্রের সময় অনুসারে বাংলার বিভিন্ন মাসের দিনের সংখ্যা বদলে বদলে যায়। কোনও মাসের দিনের সংখ্যা কখনও ২৯, কখনও ৩০, কখনও আবার ৩১। কখনও কখনও সেটা বেড়ে ৩২-ও হয়ে যায়।
আসলে বিভিন্ন মতের এই পঞ্জিকাগুলোর রূপকার ছিলেন প্রাচীন ভারতবর্ষের জ্যোতিষীরা। তাঁরা মূলত চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান, দিন-রাতের চুলচেরা হিসেব কষে বিভিন্ন রকমের তথ্যের ওপর নির্ভর করে নানা রকম সিদ্ধান্ত লিখে রাখতেন। আর তার ওপরেই ভিত্তি করে তৈরি হত পঞ্জিকা।
কবে থেকে বাংলায় পঞ্জিকা শুরু হয়েছিল বহু চেষ্টা করেও তার হদিশ পাওয়া যায়নি। তবে এটুকু জানা যায়, অনেক অনেক বছর আগে হাতে লেখা পঞ্জিকার চল ছিল। কোনও কোনও গবেষকের মতে, সব থেকে প্রাচীন বেদাঙ্গ জ্যোতিষ পঞ্জিকা নাকি সংকলিত হয়েছিল ১৮৫০ খ্রিস্টপূর্বে। পরে হাতে লেখা পঞ্জিকা শুরু হলেও সেটা ব্যবহার করার অধিকার এবং সামর্থ--- কোনওটাই সাধারণ লোকের ছিল না। ধরা-ছোঁয়া তো দূরের কথা, চোখের দেখা, দেখারও অধিকার ছিল না নিম্নবর্ণের। একমাত্র রাজা, মহারাজা, জমিদার বা ওই রকম অভিজাত শ্রেণি কিংবা ব্রাহ্মণ-পণ্ডিতেরাই কেবল ব্যবহার করতে পারতেন সেই পঞ্জিকা।
_____________________________________________
![]() |
সমন্বয় যাত্রা - বাংলা নতুন বছর ছবি : তথ্যসূত্র ______________________________________________
|
এখন অবশ্য আর চিরাচরিত ঐতিয্যবাহী লাল শালু কাপড়ে মোড়া খাতা নয়, তার জায়গায় অনেকে ল্যাপটপ নিয়েও পুজো সাড়েন। নিমন্ত্রিতরা এলেই তাঁদের হাতে ডাবের জল, লস্যি কিংবা ঠান্ডা পানীয় তুলে দেন। তুলে দেন মিষ্টির প্যাকেট এবং অবশ্যই সব চেয়ে লোভনীয়, পঞ্জিকার মিনিয়েচার--- বাংলা ক্যালেন্ডার।
এই উপলক্ষ্যে বইপাড়ায় থাকে সাজো সাজো রব। শুধু বড় বড় প্রকাশকেরাই নন, ছোট, তস্য ছোট প্রকাশকেরাও প্রকাশ করেন একের পর এক বই। যদিও বইমেলা রমরম করে শুরু হওয়ার পরে পয়লা বৈশাখে বই প্রকাশ করার রীতি এখন অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে এসেছে। তবু এ দিন প্রকাশকদের দফতরে দফতরে দেখা যায় কবি-লেখক-সাহিত্যিকদের ডমজমাটি ভিড়।
এক সময় বাংলা বছরের শুরুয়াতের দিনে নতুন জামাকাপড় পরার একটা অলিখিত রীতি ছিল। সেই রীতি পালন করার জন্য, যাদের আর্থিক অবস্থা অতটা সচ্ছ্বল নয়, তারাও বৈশাখ মাসের আগে, গোটা চৈত্রমাস জুড়ে চলা সেল-এ তুলনামূলক ভাবে সস্তায় জামাকাপড় কিনে রাখতেন। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি, সেই স্টক ক্লিয়ারেন্সের বাজারও কিন্তু এখন আর আগের মতো নেই। একেবারে মুখ থুবড়ে পড়েছে। কারণ, বিভিন্ন ব্র্যান্ড আজকাল কোনও উৎসব-উপলক্ষ্য ছাড়াই নানান ওয়েব সাইডের মাধ্যমে সারা বছরই এত বেশি ছাড়ে পোশাক-আশাক বিক্রি করে, শুধু বিক্রিই করে না, একেবারে বাড়ি অবধি পৌঁছে দেয়, এবং তার গুণগত মান এত ভাল আর তার ডিজাইনও এমন চোখ ধাঁধানো যে, কেউ আর চৈত্রসেলের জন্য বসে থাকে না।
আগে এই দিনেই একেবারে আলোর রোশনাইয়ে ঝলমল করত চিৎপুরের যাত্রাপাড়া। গ্রামগঞ্জ থেকে নায়েবরা এসে আগাম টাকা দিয়ে বুক করে যেতেন নতুন এক-একটা পালা। এই একদিনেই এত টাকার লেন-দেন হত যে, যাত্রাদলগুলোর প্রায় সারা বছরের খরচা উঠে যেত। এ দিন পালাকারদের বরাদ দেওয়া হত নতুন পালা লেখার। টানা এক বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হতেন যাত্রাপালার রথী-মহারথী অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। সবাই নজর রাখতেন কোন অপেরায় রুপোলি পর্দার কোন তারকা নাম লেখালেন।
কিন্তু এখন! সরকারি উৎসব বাদ দিলে আর কোথায় হয় একটানা সাত দিন, দশ দিন ধরে যাত্রাপালা! বিভিন্ন চ্যানেলের সিরিয়ালগুলো গিলে নিয়েছে বাঙালিদের সেই সব সোনালি দিন।
এক সময় এই পয়লা বৈশাখেই বেশির ভাগ বাংলা ছায়াছবির শুভ মহরত হত। এখনও হয়। তবে তা একেবারেই হাতে গোনা। সেটাও যে কত দিন চলবে কে জানে!
শুধু এ দেশেই নয়, পৃথিবীর যেখানেই বাঙালি কলোনি আছে, সেখানেই পয়লা বৈশাখ উৎযাপনের ধুম চোখে পড়ে। সেটা সিডনি হোক কিংবা লস ভেগাল। আমেরিকা হোক কিংবা লন্ডন। তবে সব চেয়ে বেশি চোখে পড়ে বাংলাদেশের লোকজনদের উৎসাহ।
ওখানকার বিভিন্ন জেলা-উপজেলার স্কুল-কলেজে সকাল থেকেই শুরু হয়ে যায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আর যেহেতু ওটা নদীমাতৃক দেশ, তাই বিভিন্ন জেলায় এই উৎসবের অবিচ্ছিন্ন অংশ হয়ে উঠেছে নৌকো বাইচ প্রতিযোগিতা। জেলা-উপজেলার দেখাদেখি তার রেশ এসে পড়েছে শহরতলী তো বটেই, এমনকী খোদ শহরেও। বেশ কয়েক বছর ধরে ঢাকার হাতিরঝিলেও এ দিন আয়োজন করা হচ্ছে নৌকা বাইচের।
তবে মুন্সিগঞ্জের সেই বিখ্যাত ঘোড়ার দৌড়, ষাঁড়ের লড়াই, পায়ড়া ওড়ানো, বহুরূপীর সাজ, মোরগের ঐতিয্যবাহী লড়াই আগের মতো আর হয় না। যেটুকু হয় তা উল্লেখ করার মতো নয়। তার জায়গায় এখন আয়োজন করা হচ্ছে অন্য রকম নতুন নতুন মনোজ্ঞ প্রতিযোগিতা।
আর শহরের কথা বলতে গেলে সবার আগে বলতে হয় ঢাকার রমনার বটমূলের কথা। জায়গাটা বটমূল নামে পরিচিত হলেও আসলে যে গাছের তলায় মঞ্চ তৈরি করে অনুষ্ঠান হয়, সেটা কিন্তু বটগাছ নয়, অশ্বত্থ গাছ। সেই গাছের তলায় খুব ভোরে ছায়ানটের শিল্পীরা একসঙ্গে গান গেয়ে নতুন বছরের সূর্যকে আহ্বান করেন। সেই আবাহনের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় বর্ষবন্দনা।
![]() |
| ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
এই সব মেলায় আর পাঁচটা মেলার মতো বাচ্চাদের খেলনা, মেয়েদের সাজার জিনিসপত্র পাওয়া গেলেও মূলত থাকে কৃষিশিল্প, কারুশিল্প, লোকশিল্প, কুটিরশিল্প, হস্তশিল্প, মৃৎশিল্প। সার্কাস, নাগরদোলার পাশাপাশি মঞ্চ আলো করে থাকে যাত্রা, পালাগান, কবিগান, গম্ভীরা গান, গাজীর গান, আলকাপ গান, লোকসঙ্গীত, বাউল-মারফতি-মুর্শিদি-ভাচিয়ালি। পরিবেশিত হয় লাইলি-মজনু, ইউসুফ-জুলেখা, রাধা-কৃষ্ণের আখ্যান। বাদ যায় না পুতুল নাটকও। তাই এটাকে কেউ কেউ বৈশাখী মেলা না বলে সর্বজনীন লোকজ মেলাও বলেন।
এই দিন ঘরে ঘরে সকাল থেকেই চলে খই, মুড়ি, বাতাসা খাওয়ার ধুম। দুপুরে থাকে পান্তাভাতের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ভর্তা, কাঁচামরিচ, মানে লঙ্কা, আর জিভে জল আনা ইলিশ মাছের নানা রকম পদ। এ দিন বাংলাদেশের ঘরে ঘরে কিন্তু ইলিশ মাছ মাস্ট। সঙ্গে থাকে রসগোল্লা। এই মেনুই এখন নববর্ষ উৎযাপনের একটা ওতপ্রোত অঙ্গ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশে।
এ দিন বাংলাদেশে এত ইলিশ মাছ বিক্রি হয় যে, ২৪ ঘন্টার টিভি চ্যানেলগুলো দেশের বড় বড় ইলিশের আড়ৎ ও পাইকারি বাজার থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে জনগণকে জানিয়ে দেয় ইলিশের সেই মুহূর্তের বাজার দর।
এ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষঙ্গর আয়োজনে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ঘটা করে পা মেলান বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায়। হাতে হাতে থাকে বিভিন্ন ধরনের প্রতীকী শিল্পকর্ম। বাংলার ঐতিয্যবহনকারী বিভিন্ন রকমের কুলো, নানান রঙের মুখোশ, বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতি। এই শোভাযাত্রা গোটা পৃথিবী জুড়ে এতটাই সাড়া ফেলেছে যে, ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ইউনেস্কো এই শোভাযাত্রাকে ‘মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিয্য' হিসেবে ঘোষণা করেছে।
ঢাকার সেই মঙ্গল শোভাযাত্রার অনুকরণে ইদানিং কলকাতাতেও শুরু হয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। যাদবপুরের সুকান্ত সেতু থেকে ঢাকুরিয়া অবধি। এই পদযাত্রার আয়োজন করছে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা কলকাতা'। কলকাতার বাংলাদেশ হাই কমিশনও বেশ কয়েক বছর ধরে ঘটা করেই আয়োজন করছে মঙ্গল শোভাযাত্রার।
![]() |
| ছবি : তথ্যসূত্র |
পশ্চিমবঙ্গে চান্দ্রসৌর বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে
কোনও বছর ১৪ এপ্রিল আবার কোনও বছর ১৫ এপ্রিল
নববর্ষ পালন করা হলেও বাংলাদেশে কিন্তু তা হয় না।
ওখানে গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে প্রত্যেক বছর
১৪ এপ্রিলই নববর্ষ পালন করা হয়। আসলে আধুনিক
বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে বাংলা আকাডেমিই এই দিনটি
নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মতো বাংলাদেশের
কেউ অবশ্য পয়লা বৈশাখ বলে না, বলে--- পহেলা বৈশাখ
এই পহেলা বৈশাখে শুধু কঁচিকাচারাই নয়, অনেক বড়রাও
ঘুড়ি-লাটাই নিয়ে দল বেঁধে নেমে পড়েন ঘুড়ি ওড়াতে।
কেবল রং-বেরঙেরই নয়, নানান মাপের এবং বিচিত্র সব
আকারের ঘুড়ি। ওড়ানোর পাশাপাশি চলে ঘুড়ি কাটাকাটির
প্রতিযোগিতাও। তাই সাত দিন আগে থেকেই শুরু হয়ে যায়
সুতোয় মারকাটারি মাঞ্জা দেওয়ার প্রস্তুতি।
এই নববর্ষকে আহ্বান করার জন্যই সাফসুতরো করা হয় ঘরবাড়ি। লেপা হয় মাটির ঘরদোর। পোকামাকড়ের উৎপাত বন্ধ করার জন্য গোয়ালঘরে দেওয়া হয় বিষকাটালির ধোঁয়া। চলে নানা পুজোপার্বণ। গ্রাম-তস্যগ্রামের আদিবাসীরা নাচগান আর মহুয়া পানের মধ্যে দিয়ে মেতে ওঠেন এই উৎসবে।
চৈত্রসংক্রান্তি ও নববর্ষ উপলক্ষ্যে বছরের শেষ দু’দিন আর নতুন বছরের প্রথম দিন--- মোট এই তিনটি দিনকে ঘিরে পার্বত্য জেলা--- রাঙামাটি, বান্দারবন আর খাগড়াছড়িতে শুরু হয় পাহাড়িদের সব চেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’।এই উৎসবকে ত্রিপুরারা ‘বৈসুক’, মারমারা ‘সাংগ্রাই’ এবং চাকমারা ‘বিজু’ বললেও গোটা পাহাড়ি অঞ্চলে এটা কিন্তু ‘বৈসাবি' নামেই পরিচিত। বৈসুক, সাংগ্রাই আর বিজু--- এই নামগুলোর অদ্যক্ষর নিয়েই তৈরি হয়েছে ‘বৈসাবি’। এই উৎসবের মূল উদ্যেশ্যই হল, পুরনো বছরকে বিদায় জানানো এবং নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া।
নববর্ষের দিন মারমা জনগোষ্ঠী আয়োজন করে তাদের বহু পুরনো--- পানি খেলা। পানি, মানে জলকে পবিত্রতার প্রতীক ধরে নিয়ে মারমার তরুণ-তরুণীরা জল ছিটিয়ে সবাইকে পবিত্র আর শুদ্ধ করে দেয়। পাহাড়িদের মধ্যে এই পানি খেলা অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি উৎসব।
পয়লা বৈশাখ বা পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান একদিনের হলেও সেটায় যাতে কোনও খামতি না থাকে, সে জন্য সারা চৈত্রমাস ধরেই চলে তার তোড়জোড়। গোটা বাংলাদেশ জুড়ে সাজ সাজ রব পড়ে যায়।
এই বৈশাখ মাসের সঙ্গেই ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে চৈত্রসংক্রান্তি। গাজন উৎসব। চরকমেলা এবং সঙ সেজে নগর পরিক্রমা।
সব স্তরের সবাই যখন এই উৎসবের আঁচ পুরোপুরি ভাবে উপভোগ করছে, তখন পিছিয়ে নেই খেলাধুলোর জগৎও। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের মতো বড় বড় ক্লাবগুলো তাদের খেলার মাঠে এ দিন রীতিমত পূজারি এনে ঢাকঢোল পিটিয়ে, মন্ত্রপাঠ-টাঠ করিয়ে বার পুজো করে। যে ‘বার' বা গোলপোস্ট দিয়ে বল ঢুকলেই নির্ধারিত হয়ে যায় হার বা জিত। বছরের এই প্রথম দিনে ক্লাবের কর্মকর্তা থেকে খেলোয়াড়রা, এমনকি সাপোর্টাররাও সবাই মিলে কামনা করেন সারা বছর যেন তাঁরা গোল দিতে পারেন। আর অন্যদের গোল দেওয়ার চেষ্টা যেন রুখে দিতে পারেন। এটাই বার পুজোর আসল উদ্যেশ্য।
এই সময় আকাশ জুড়ে যতই মেঘের দাপাদাপি থাকুক। দিগন্ত কালো হয়ে জানান দিক ঝড়ের পূর্বাভাস। তবু এই বৈশাখ মাস দিয়েই কবিরা লিখতে শুরু করেন--- ‘বারোমাস্যা’। বৈশাখ থেকে চৈত্র--- বারো মাসব্যাপী নানান ঘটনার কাহিনিভিত্তিক এই দীর্ঘ কবিতাগুলোর প্রতি ছত্রে ছত্রে ধরা পড়ে সারা বছরের যাবতীয় শোকগাথা। যেন কবিতা নয়, কবির কলমে আমাদের সারা বছরের সুখ-দুঃখের কাহিনিই যেন সাদা পাতায় ফুটে ওঠে কালো অক্ষরে।
___________________________________________
![]() |
| Co-Sponsor |
KITCHEN SERIES
Authorized GBP
at
Hooghly District
Bishalaxmitala,
pipulpati,Chinsura,
Hooghly
____________________________________
____________________________________
গদ্য
নিষিদ্ধ বস্তু ও হোস্টেল জীবন
মানস শেঠ
ঝিম মার্কা ছুটির দুপুরে বা ঘুমানোর আগে রাতে
![]() |
| ছবি : তথ্যসূত্র |
আমাদের নিষিদ্ধ জগতে ঢোকার রাস্তা।ব্যপারটা শুনতে এখন অবাক লাগলেও,বেলুড় মিশনের
হোস্টেলের জীবনে ওটাছিল আমাদের কাছে নিষিদ্ধ জগতের হাতছানিআমরা যারা মফঃস্বল থেকে রামকৃষ্ণ মিশনে কলেজ জীবন কাটাতে গেছি,তারা ভাবতে বসেছিলাম বিবেকানন্দর এমনতর সংগীত প্রতিভা থাকতে এফ.এম নিষিদ্ধ কেন?আমাদের হোস্টেলের ঘরে ছিল একটা
পাখা ও একটা আলোর সুইচ,কোনো প্লাগ
মহারাজরা যে একদমই কিছু জানত না,তা নয়।বরং ওনারাই যে জানতেন সেইটা জানতে দিতেন না।ভারতের ক্রিকেট খেলা হলে স্কোর আপডেট ওনারাই জিজ্ঞাসা করতেন আশ্রমবাসী ছাত্রদের, উৎস জানতে চাইতেন না কোনোদিনই।জিজ্ঞাসা করতেন না,ফোনহীন-ইন্টারনেটহীন মিশনবাসীরা কোথা থেকে স্কোর আপডেট পায়।নিষিদ্ধ জিনিসের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল ফাস্ট ইয়ার থেকে মাস্টার্স করা ছাত্রদের মধ্যে।বালিশের নীচে রাখা এফ.এম বা মাফলারে জড়িয়ে রাখা এফ.এম এর কর্ড আমাদের পাঠ্য জীবনে নিয়ে আসত খোলা হাওয়া।বৈদিক মন্ত্রের সাথে আমরা প্রিয় করে নিয়েছিলাম অনুপম রায়,রূপম ইসলাম এদেরও।পরীক্ষার খাতায় ওদের গানের লাইনগুলো ঢুকিয়ে মহারাজদের কাছ থেকে বাহবা পাওয়াটা ছিল চরম গর্বের।
আপাত নিষিদ্ধ বিষয়গুলো এখন আর নিষিদ্ধ নেই আমাদের জীবনে।মোবাইল ফোন ছিল,হোস্টেলে কড়া ভাবে নিষিদ্ধ।এক টাকার কয়েন বুথ আর বি এস এন এলের কার্ড টাই ছিল ভরসা।বাড়ির মানুষদের সাথে যোগাযোগ করার এক মুহূর্ত।লাইন দিয়ে ফোন করার একটা স্বাদু মুহূর্ত ছিল।এখন ত আর কোনো ফোনবুথ নেই,লাল-সবুজে লেখা STD,ISD,PCO এখন সবটাই অতীত,পুরোটাই ফ্রি কলের যুগ।এখন সিনেমা দেখতে গেলে চুপি চুপি যেতে হয় না।
যুগ গেছে রংয়ের খাতিরে বদলে,অন্য কলেজের মধ্যে অবশ্যই প্রবেশ করেছে লাল-সবুজ-গেরুয়ার কিছু আসন দখলের লড়াই।রামকৃষ্ণ মিশনের কলেজ এই রাজনীতি থেকে বাস করে অনেক দূরে,ছাত্ররাও নামেনি ওই রঙে রাঙিয়ে নিতে।বরং যখন দেখি বন্ধুত্বের মধ্যে সহযোগিতা কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে আবদ্ধ তখন ভাবি ওদের জীবনে এই নিষিদ্ধ বস্তুগুলো আমাদের কাছে ছিল পরম আপন।বিনয়,বিদ্যা, শ্রদ্ধা,বিবেক,শ্রী-এই পাঁচটি ভবনে ছিল অগাধ যাতায়াত।কারো কিছু হলে,পাশে দাঁড়ানোই ছিল আমাদের প্রয়াস।স্থান-কাল-পাত্র কিছুই বিবেচনা করার দরকার পড়ত না।
নিষিদ্ধ ও অনিষিদ্ধ বস্তুটাই বড্ড আপেক্ষিক।হোস্টেল ছাড়ার পর এই নিষিদ্ধ বস্তুগুলোকে নিষিদ্ধ মনে হয়নি ঠিকই,কিন্তু মনকেমনের একটা হাওয়া বয়ে চলে ওই চক্করসমাপ্তির ঝান্ডাদুলিয়ে।ফেলে আসা পিছুটানের ওই মধুর স্মৃতিগুলি,ওই ফাঁকি দেওয়া বুদ্ধিগুলি আজ যেন আঁকড়ে বেঁচে থাকার একটা রসদ।এখন ভাবি ওই পালিয়ে সিনেমা দেখা বা এফ.এম এর গানগুলি আজ যেন নিষিদ্ধ হয়েও বড্ড আপন।এই আপন পথে চলা যেন কোনোদিন শেষ না হয়।
_____________________________________________
__________________________________
গ্রীষ্মের ভ্রমণ করোনা ত্রাসে শিকেয়।পুজোর
ভ্রমণ প্লানিং এখন থেকেই সেরে রাখা যায়।
এবং অধ্যায়ের ভ্রমণ ঝাঁপি থেকে এরকম
কয়েকটি ছোট্ট ছুটির হদিশ।ঝাঁপি থেকে
আজকের ঠিকানা: উত্তরবঙ্গ গামী যেকোনো মেল/এক্সপ্রেসে সকালসকাল এন. জে. পি পৌঁছে শেয়ার সুমো বা বাসে ঘন্টা দেড়েকে মিরিক পৌঁছে,হোম স্টে'র পাঠানো গাড়িতে আরো ছয় কিমি.সফর শেষে পিকচার পোস্টকার্ডের মতো 'তাবাকশী'ভিলেজরাত্রিবাস সোনাখারী হোমস্টে।
থাকা-খাওয়া খরচ পকেট-ফ্রেন্ডলি।রংভাঙ নদী,পার্ক,
চা বাগানের ঘেরাটোপে এক অনিন্দ সুন্দর নিসর্গ।এই জায়গাকে বুড়ি করে ঘুরে নেওয়াযায়,নেপালের পশুপতি-মার্কেট,থারবো টি গার্ডেন ইত্যাদি।থাকা-খাওয়া-বেড়ানোর বিস্তারিত তথ্য পেতে:৯৭৩৩৪৫৪৭৭৯
_____________________________________
প্রবাল বসু
অনেকদিন পর ঘর খুলে দেখি যেখানে সেখানে
পলেস্তারা খসে পড়েছে।
ভেজা ভেজা।
নর্দমার জল?
ওয়াক থু...
আকণ্ঠ জঞ্জাল। তবুও কথা খুঁজি কথার গভীরে।
যোগ ও সাজশকে কি কেউ এক পাত্রে রাখে?
সুতরাং একটা সূত্র তো বেরিয়ে আসবেই।
অকস্মাৎ।
তারপর তিল থেকে তাল।
সন্দেহ? না না।
কী লাভ আছে বলো?
আমিও সরাতে থাকি আগে পিছে দানা বাঁধা কথা ও কাহিনী।
লুকোচুরি কারই বা ভাল লাগে?
মুখোশ খুলে দিলে প্রতিটি মানুষই অসহায় ভেতরে ভেতরে।
__________
অরিজিৎ পাল
বৈধব্যের শূন্য সিঁথির মত পড়ে আছে আজ
ব্যস্তবাগীশ সভ্যতার সরীসৃপ পথ-ঘাট৷
নিস্তরঙ্গ নৈঃশব্দ্যের সরণি বেয়ে
হঠাৎ দমকা হাওয়া - উড়ে যায়
জীবনবিমার শেষ প্রিমিয়ামের রসিদ৷
জীবন-মৃত্যুর সাপলুডো খেলায়
বাঁচার সংগ্রাম৷ অথচ,
জ্বর কমে গেলে
ধর্মধ্বজায় বেঁচে থাকে শুধু
মৃত্যুর স্হবিরতা৷
মুঠোভরা দুঃস্বপ্নের শেষে বরং
ভরসা থাকুক তোমার-আমার
একটা একচালা জীবনের৷
এসো, মৃত্যুগন্ধী বুক নিয়েও
কবিতায় মুড়ে দিই আজ
অসভ্য, দুর্বিনীত উলঙ্গ শরীরগুলো৷
এক অবিরাম, অনন্ত আলোর পথে
সময়ের দাঁড় টেনে
একফালি স্বচ্ছতোয়া নদী বেয়ে
আমাদের দেখা হোক
এক জ্যোতির্ময় ভোরে৷
__________
রঞ্জিতা পাল
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে আমরা চিনি একজন সংস্কৃত পন্ডিত,সংস্কারক এবং দয়ার সাগর হিসেবেই।কিন্তু তিনিও যে একজন প্রগতিশীল,বিজ্ঞানমনস্ক তথা বিজ্ঞান অনুরাগী ছিলেন সে বিষয়ে আমরা খুব বেশি অবগত নই।পাঠ্যজীবনে বিদ্যাসাগর কিন্তু বিজ্ঞানচর্চা করেননি, যাতে তাঁর মত মানুষকে 'বিজ্ঞানী' আখ্যা দেওয়া হতে পারে;অথচ পরবর্তীকালে বিদ্যাসাগরের আচার-আচরণে একজন সার্থক বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের রূপ আমরা দেখতে পাই।
বিদ্যাসাগরের জীবনচরিত পাঠ করলে দেখা যায় ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ যখন তিনি সংস্কৃত কলেজের ছাত্র,ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যায় তিনি এক প্রস্থ পাঠ করেন।সেই জ্যোতির্বিদ্যায় কোনো অয়নচলনের উল্লেখ ছিল না।হিন্দু জ্যোতির্বিদরা জানতেন না মাস সাপেক্ষে ঋতু এগিয়ে আসে,ব্যাপারটা এইরকম ছিল,যেটা চৈত্রতে হবার কথা সেটা হচ্ছে বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠতে।সেই অজ্ঞতার দরুন,চৈত্র ও বৈশাখ মাস ধরা হত বসন্তকাল বলে।কিন্তু ইউরোপীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান থেকে বিদ্যাসাগর জানলেন,এই অয়নচলনের ব্যপারটা।তারই প্রকাশ দেখা গেল ১৮৫০ এ,তাঁর প্রকাশিত বাংলায় লেখা পাঠ্যপুস্তকে।হিন্দুজ্যোতিষে উপেক্ষিত এই অয়নচলনকে অন্তর্ভুক্ত করে তিনি সেই বইয়ে ফাল্গুন চৈত্রকে বসন্তকাল বলে উল্লেখ করলেন।এর ফলে,২৩ দিনের যে ভুল থেকে যাচ্ছিল,এতে তার অনেকটাই হ্রাস পেল,সেটি এসে নামল ৭ দিনে।
বিজ্ঞানের মৌলিক বই না লিখলেও ছাত্রদের পঠনের অসুবিধার কথা ভেবে মেধাবী পন্ডিতমশাই বিজ্ঞানের অঙ্গনে প্রবেশ করতে দ্বিধাবোধ করেননি।উইলিয়ম ও রবার্ট চেম্বার্স ভ্রাতৃদ্বয় রচিত ইংরেজি বই থেকে কয়েকজন বিজ্ঞানীর জীবনী সংকলন করে প্রকাশ করেন "জীবনচরিত"(১৮৪৯)।যে সমস্ত বিজ্ঞানীদের জীবনী 'জীবনচরিত'এ স্থান পেয়েছিল তাঁরা ছিলেন বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার কৃতবিদ্য ব্যক্তিত্ব।উদ্ভিদবিদ্ লিনিয়াস,জ্যোতির্বিদ কোপারনিকাস ও গ্যালিলিও,পদার্থবিজ্ঞানী নিউটন,ভূগোলবিদ ডুবাল এঁদের মধ্যে অন্যতম।
সমাজে অনড় হয়ে থাকা অন্ধতা, কুসংস্কারাচ্ছন্নতার কালোছায়াতে মানুষের মন যখন ছেয়ে যাচ্ছিল তখন বিদ্যাসাগর বিজ্ঞানের আলোকে জীবনচরিত বইয়ে কোপারনিকাসকে নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি লিখছেন,-
"পূর্বকালীন লোকেরা বিচারের সময় চিরাগত কতিপয় নির্ধারিত নিয়মের অনুবর্তী হইয়া চলিতেন,সুতরাং স্বয়ং তত্ত্ব নির্ণয় করিতে পারিতেন না,এবং অন্যে সুস্পষ্ট রূপে বুঝাইয়া দিলেও তাহা স্বীকার করিয়া লইতেন না।তৎকালীন লোকদিগের এই রীতি ছিল,পূর্বাচার্যেরা যাহা নির্দেশ করিয়া গিয়াছিলেন, কোনও বিষয়,তাহার বিরুদ্ধতা বা বিরুদ্ধবৎ অভাসমান হইলে,তাঁহারা শুনিতে চাহিতেন না।"
এই সুকঠিন জ্ঞানসাধনার উদ্দেশ্য তাঁর কাছে ছিল একটাই-মানুষের চেতনাকে অন্ধবিশ্বাসের এদোঁগলি থেকে যুক্তিবিচারের বাঁধানো পথে নিয়ে আসা।এ জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক বইয়ের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।
বিদ্যাসাগর প্রণীত বিজ্ঞান প্ৰবন্ধ আলোচনা করতে হলে 'বোধোদয়' চতুর্থ ভাগের উল্লেখ করতে হয়।প্রধানত,চেম্বার্সএর "রুডিমেন্টস অফ নলেজ"বইটির অনুকরণে "বোধোদয়"বইটি লেখা। জড় পদার্থ,বিভিন্ন প্রাণী,উদ্ভিদ,মানবজাতি,পঞ্চইন্দ্রিয়,ধাতু,কৃষিকর্ম,
রসায়ন,ভূবিদ্যা ইত্যাদি বিষয়ের প্রবন্ধগুলি এতে স্থান পেয়েছে।বইটির মাধ্যমে এই বিষয়গুলি সম্পর্কে কিশোরদের সম্যক ধারণা গড়ে তোলার প্রয়াস তাঁর সমগ্র চিন্তার মধ্যে লিপ্ত ছিল।তাই তিনি লিখলেন,-
"ইন্দ্রিয় জ্ঞানের দ্বারা স্বরূপ,অর্থাৎ ইন্দ্রিয় দ্বারা সর্বপ্রকার জ্ঞান জন্মে।ইন্দ্রিয় না থাকিলে আমরা কোন বিষয়ে কিছুমাত্র জানিতে পারিতাম না।...ইন্দ্রীয়বিহীন হইলে,আমরা সকল বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞান থাকিতাম।...ইন্দ্রিয় বিনিয়োগ দ্বারা অভিজ্ঞতা লাভ হয়।অভিজ্ঞতা লাভ হইলে,ভালো-মন্দ,হিত-অহিত বিবেচনার শক্তি জন্মে।"
বিশ্বাস নির্ভর অধ্যাত্মবাদী চেতনার বিপরীতে এই ভাবেই বিজ্ঞানভিত্তিক যুক্তিবাদী শিক্ষা দেশের মানুষের মধ্যে ছাড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি।
তিনি বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বিজ্ঞান সম্পর্কে চেতনা জাগাতে প্রয়াসী হয়েছিলেন।তাঁর "জীবনচরিত"ও "বোধোদয়"দুটি বইকে একযোগে বিজ্ঞানের বর্নপরিচয় ও ধারাপাত বলে মনে করা হয়।সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বিদ্যাসাগর মশাইয়ের সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকাকে "অবৈজ্ঞানিক বাঙালির প্রথম বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার"এর মর্যাদা দিয়েছিলেন।কারণ,উপক্রমণিকায় তিনি মুগ্ধবোধ এর প্রায় ১৩০০ টি সূত্র কয়েকটি পাতায় ধরে দিয়েছিলেন।অনুসৃত নীতি হলো,হাবার্ট স্পেন্সার যাকে crude method বলেছেন-তাই অর্থাৎ মুখস্ত নির্ভর শব্দ ও ধাতুরূপ আয়ত্তে করতে হবে প্রথমেই।স্মৃতির উপরে প্রথম প্রথম নিছক যান্ত্রিকভাবে ভর করে ক্রমশ বুদ্ধির প্রয়োগে সূত্র বুঝবার মত ছাত্রের মস্তিষ্কের অবস্থা ও তার অনুযায়ী মানসিক প্রবণতা তৈরি হলেই তবেই সাধারনীকরণ-এই ছিল বিদ্যাসাগরের অনুসৃত নীতি।এই পদ্ধতি ত বিজ্ঞানের পরিভাষায় "আরোহী"পদ্ধতি বা Inductive Method।আইরিশ শিক্ষাবিদ Thomas Wyse এর মতের উল্লেখ করে তিনি বলেছেন,-
"grammar and syntax are a collection of laws and rules.Rules are gathered from practice;they are the results of induction to which we come by observation and comparison of facts."
বর্নপরিচয় বিদ্যাসাগরের সেরা সৃষ্টি,একথা ত মানতেই হবে।পাণিনি থেকে ব্যোপদেব পর্যন্ত কেউই সোজা করে বাংলা বর্ণমালাকে এক জায়গায় সাজিয়ে দেননি।উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বা মাহেশ্বরসূত্র বা "অক" ইত্যাদি প্রত্যাহার অনুসারে তাঁরা স্বর ও ব্যঞ্জন একসঙ্গে করে গুচ্ছ তৈরি করেছেন, যাতে সূত্র রচনা করার সুবিধা হয়।বর্ণোদ্ধার তন্ত্র এ স্বর ও ব্যঞ্জন পৃথক করে লিখলেও,কামধেনু তন্ত্র প্রতি অক্ষরের আকারও দিয়েছেন।তারপর সংস্কৃত ব্যাকরণ লেখা হলেও,রামমোহন রায় ব্যাকরণ লিখলেও ১৮৫৩ সালে তিনি বাংলা ভাষায় বর্নপরিচয় লিখতে বসে দৃঢ়ভাবে বললেন,ষোলটি স্বরের মধ্যে দীর্ঘ ঋ-কার ও ৯-কার বাংলায় ব্যবহৃত হয় না।বিশেষভাবে ভেবে দেখলে,অনুস্বার ও বিসর্গ স্বরবর্ণতে থাকার যোগ্য নয়।এমনকি 'ক্ষ' খারিজ হলো তাঁর হাতেই।এই বর্নপরিচয় এর মূলমন্ত্র ছিল কিন্তু ধ্বনিবিন্যাস।এটাই রবি ঠাকুরের স্মৃতিতে ছিল।বিদ্যাসাগরের কান কিরকম সচেতন ও সূক্ষ্ণ ছিল এটাই বুঝি তার প্রমাণ।শ্রবনেন্দ্রিয়তার ব্যাপারটা কিন্তু বিজ্ঞানচর্চার মধ্যেই পরে।
বিজ্ঞানসম্পর্কে অতুল অনুসন্ধানই বিদ্যাসাগরকে করে তুলেছে বিজ্ঞানপ্রেমিক ও বিজ্ঞানমনস্ক।সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষের পদে আসীন হবার পর তিনি বলেন,ছাত্রদের সংস্কৃতের বদলে ইংরেজিতে গণিত বিদ্যার শিক্ষা দেওয়া উচিত।একদিকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর গ্রন্থাদি রচনায় উৎসাহ দিয়েছিলেন আবার কিছু সংশোধনের কাজও করেছিলেন প্রসন্নকুমার সর্বাধিকারী প্রণীত পাটিগনিত গ্রন্থে তিনি শব্দ সংকলনে সাহায্য করেন,বীজগণিতের বই রচনায় উৎসাহিত করেছিলেন।চন্দ্রকান্ত শর্মাকে তিনি গনিতাঙ্কুর প্রণয়নে উৎসাহিত করেছিলেন।অক্ষয়কুমার দত্ত মহাশয়ের তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় পাঠানো(১৮৩৭) বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধবলিও বিদ্যাসাগর মহাশয় যোগ্যতাসহকারে সংশোধন করতেন,একথা অক্ষয়কুমার নিজেই স্বীকার করে গেছেন।তার বৈজ্ঞানিক পরিভাষা আজও বহুল প্রচলিত,যেমন:-perspective>পরিপ্রেক্ষিত,Elasticity>স্থিতিস্থাপক(তা),Reflecting>প্রতিফলিত;Telescope>দূরবী ক্ষণ; Orbit>কক্ষ।
বিদ্যাসাগর সে যুগের এমনই এক বিরল ব্যক্তিত্ব,এদেশের সামন্ততন্ত্রের মৃত্যুকালে,যখন ধর্মীয় গোঁড়ামি, অন্ধকুসংস্কার জনজীবনকে পিষে মারছে,সেই ঝড়-ঝঞ্ঝাময় সময়ে বিদ্যাসাগরের অভ্যুদয়।অতীতের অভিজ্ঞতা নিয়ে,তাঁর যুগের উন্নততর জ্ঞানভান্ডারকে আত্মস্থ করার মধ্য দিয়ে বিচার বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এদেশের সমাজ সম্পর্কে তিনি যা করণীয় হিসেবে মনে করেছেন তা করেছেন,যা সত্য বলে বুঝেছেন তা প্রতিষ্ঠার জন্য আপসহীন সংগ্রাম করেছেন আজীবন,আর চলার পথে ছড়িয়ে দিয়ে গেছেন বস্তুবাদী যুক্তিনিষ্ঠায় উজ্জ্বল তাঁর প্রতিভাময় ব্যক্তিত্বের বিচ্ছুরণ।
____________________________________________
আদিবাসীরাই কিন্তু আমাদের দেশের আদি অধিবাসী।
পৃথিবীর অসুখের কারণে আমার আপনার পূর্ব পুরুষরা আজ গভীর সঙ্কটে।পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের প্রাচীনতম জাতিগোষ্ঠী শবর, ভূমিজ-সহ অন্যান্য অনগ্রসর সম্প্রদায়ের মানুষজন লকডাউনের কারণে গভীর খাদ্যসঙ্কটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এরা প্রত্যেকেই দ্রাবিড় নরগোষ্ঠীর অংশ হিসেবে চিহ্নিত।
আমাদের রাজ্যের পশ্চিম প্রান্তের জেলা বাঁকুড়ার কিছু অঞ্চলে এই সকল জাতিগোষ্ঠীর স্থায়ী ঠিকানা। প্রায় লক্ষাধিক মানুষের বাস এই অঞ্চলে। প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকায় এদের পেটেও আজ "লকডাউন"। সরকার তার সাধ্যমত চেষ্টা চালাচ্ছেন।তবুও ...
আসুন, আমরা মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াই। এই জনজাতিকে বাঁচাতে আপনিও আপনার সাহায্যের হাতটা একটু লম্বা করুন।
এই বার্তাটি আপনার গান /নাচ /কবিতার ভিডিওর সাথে জুড়ে দিন , তাহলে আরও বেশি মানুষের কাছে সহজে ছড়িয়ে যাবে ।
ধন্যবাদ।
Description : "Corona Donation"
A/C No. 50100197737146
IFSC Code : HDFC0002505
Donation to be made to: Saikat Sundar Mandal
Google Pay : 9732069997
------------------------------------------------
পাখা ও একটা আলোর সুইচ,কোনো প্লাগ
পয়েন্ট ছিল না যে এফ.এম এর তার নিশ্চিন্তে গুঁজে দেওয়া যাবে।অগত্যা ভরসা ব্যাটারি চালিত এফ.এম;তাও মহারাজদের চোখ এড়িয়ে।সেই ছোট্ট এফ.এম ও চাইলেই যে কিনতে পারবে, ব্যপারটা এতটা সহজ না।চল্লিশ টা টাকা দিয়ে লিলুয়া স্টেশনের তলা থেকে কিনে আনতে হত।এই ব্যাপারে দাদাদের ভূমিকা ছিল গার্জেনদের মত,দাদারাই বলে দিত কোথায় কি পাওয়া যাবে।বেলুড় থেকে আমরা হেঁটে যেতাম লিলুয়া স্টেশন,শুধু ওই এফ.এম কিনতেই নয় রোববার মাংস-ভাত খেয়ে লিলুয়া বা চন্দন এ হোস্টেল ফাঁকি দিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়াও হত।এই মহারাজদের চোখে ফাঁকি দিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়ার একটা বুক ঢিপ ঢিপ ভয় ছিল বলেই উত্তেজনা ছিল চরম।
রোববার খাবার ঘন্টা বাজত আমাদের সকাল এগারোটায়।খাবার পরেই মোটামুটি স্নান হত আর কেউ কেউ আগে করে নিলে হঠাৎ দুপুরে সে নিরুদ্দেশ হয়ে যেত।বিকেলে প্রার্থনা শুরুর আগে কারো গলায় তখন সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার গান,তার মানে বুঝতে অসুবিধা ছিল না যে ওই দুপুরে সে কোথায় নিরুদ্দেশ হয়েছিল।শুক্রবারের কাগজ ছিল অবশ্য পাঠ্য।আমাদের থেকে একজন জুনিয়ার ছিল,তার এমনি সিনেমা দেখার নেশা যে পয়লা বৈশাখে সে মিষ্টি আর ক্যালেন্ডার পেয়েছিল সিনেমা হল থেকে।মিশনের হোস্টেল জীবনে এ এক চরম আশ্চর্য ঘটনা।মাঝে মাঝে রুম ট্যুর ও হত,'রুম ট্যুর'মানে একটা রুমে যারা থাকতাম তারা একসাথে সিনেমা দেখতে যেতাম পালিয়ে,বাংলা বা হিন্দি সে যাই হোক না কেন,এইভাবে একদিন 'যোধা আকবর'দেখতে গেছি,হাফ টাইমের আলো জ্বলতে দেখি অনেক হোস্টেলের ছেলে।তখন আমাদের দেখে কে,তবে হোস্টেলে এই ব্যপারে স্পিকটি নট।মহারাজরা যে একদমই কিছু জানত না,তা নয়।বরং ওনারাই যে জানতেন সেইটা জানতে দিতেন না।ভারতের ক্রিকেট খেলা হলে স্কোর আপডেট ওনারাই জিজ্ঞাসা করতেন আশ্রমবাসী ছাত্রদের, উৎস জানতে চাইতেন না কোনোদিনই।জিজ্ঞাসা করতেন না,ফোনহীন-ইন্টারনেটহীন মিশনবাসীরা কোথা থেকে স্কোর আপডেট পায়।নিষিদ্ধ জিনিসের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল ফাস্ট ইয়ার থেকে মাস্টার্স করা ছাত্রদের মধ্যে।বালিশের নীচে রাখা এফ.এম বা মাফলারে জড়িয়ে রাখা এফ.এম এর কর্ড আমাদের পাঠ্য জীবনে নিয়ে আসত খোলা হাওয়া।বৈদিক মন্ত্রের সাথে আমরা প্রিয় করে নিয়েছিলাম অনুপম রায়,রূপম ইসলাম এদেরও।পরীক্ষার খাতায় ওদের গানের লাইনগুলো ঢুকিয়ে মহারাজদের কাছ থেকে বাহবা পাওয়াটা ছিল চরম গর্বের।
আপাত নিষিদ্ধ বিষয়গুলো এখন আর নিষিদ্ধ নেই আমাদের জীবনে।মোবাইল ফোন ছিল,হোস্টেলে কড়া ভাবে নিষিদ্ধ।এক টাকার কয়েন বুথ আর বি এস এন এলের কার্ড টাই ছিল ভরসা।বাড়ির মানুষদের সাথে যোগাযোগ করার এক মুহূর্ত।লাইন দিয়ে ফোন করার একটা স্বাদু মুহূর্ত ছিল।এখন ত আর কোনো ফোনবুথ নেই,লাল-সবুজে লেখা STD,ISD,PCO এখন সবটাই অতীত,পুরোটাই ফ্রি কলের যুগ।এখন সিনেমা দেখতে গেলে চুপি চুপি যেতে হয় না।
যুগ গেছে রংয়ের খাতিরে বদলে,অন্য কলেজের মধ্যে অবশ্যই প্রবেশ করেছে লাল-সবুজ-গেরুয়ার কিছু আসন দখলের লড়াই।রামকৃষ্ণ মিশনের কলেজ এই রাজনীতি থেকে বাস করে অনেক দূরে,ছাত্ররাও নামেনি ওই রঙে রাঙিয়ে নিতে।বরং যখন দেখি বন্ধুত্বের মধ্যে সহযোগিতা কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে আবদ্ধ তখন ভাবি ওদের জীবনে এই নিষিদ্ধ বস্তুগুলো আমাদের কাছে ছিল পরম আপন।বিনয়,বিদ্যা, শ্রদ্ধা,বিবেক,শ্রী-এই পাঁচটি ভবনে ছিল অগাধ যাতায়াত।কারো কিছু হলে,পাশে দাঁড়ানোই ছিল আমাদের প্রয়াস।স্থান-কাল-পাত্র কিছুই বিবেচনা করার দরকার পড়ত না।
নিষিদ্ধ ও অনিষিদ্ধ বস্তুটাই বড্ড আপেক্ষিক।হোস্টেল ছাড়ার পর এই নিষিদ্ধ বস্তুগুলোকে নিষিদ্ধ মনে হয়নি ঠিকই,কিন্তু মনকেমনের একটা হাওয়া বয়ে চলে ওই চক্করসমাপ্তির ঝান্ডাদুলিয়ে।ফেলে আসা পিছুটানের ওই মধুর স্মৃতিগুলি,ওই ফাঁকি দেওয়া বুদ্ধিগুলি আজ যেন আঁকড়ে বেঁচে থাকার একটা রসদ।এখন ভাবি ওই পালিয়ে সিনেমা দেখা বা এফ.এম এর গানগুলি আজ যেন নিষিদ্ধ হয়েও বড্ড আপন।এই আপন পথে চলা যেন কোনোদিন শেষ না হয়।
_____________________________________________
Frst time in chuchura
CityClub
Banquet Halll,
Resturent,
Community Hall
Ph.No.-033-2680-5004/5
__________________________________
ঘুরে আসি
তাবাকশী'র নিসর্গ
শোভন নন্দী
গ্রীষ্মের ভ্রমণ করোনা ত্রাসে শিকেয়।পুজোর
![]() |
| ছবি:মণিদীপা নন্দী |
এবং অধ্যায়ের ভ্রমণ ঝাঁপি থেকে এরকম
কয়েকটি ছোট্ট ছুটির হদিশ।ঝাঁপি থেকে
আজকের ঠিকানা: উত্তরবঙ্গ গামী যেকোনো মেল/এক্সপ্রেসে সকালসকাল এন. জে. পি পৌঁছে শেয়ার সুমো বা বাসে ঘন্টা দেড়েকে মিরিক পৌঁছে,হোম স্টে'র পাঠানো গাড়িতে আরো ছয় কিমি.সফর শেষে পিকচার পোস্টকার্ডের মতো 'তাবাকশী'ভিলেজরাত্রিবাস সোনাখারী হোমস্টে।
থাকা-খাওয়া খরচ পকেট-ফ্রেন্ডলি।রংভাঙ নদী,পার্ক,
চা বাগানের ঘেরাটোপে এক অনিন্দ সুন্দর নিসর্গ।এই জায়গাকে বুড়ি করে ঘুরে নেওয়াযায়,নেপালের পশুপতি-মার্কেট,থারবো টি গার্ডেন ইত্যাদি।থাকা-খাওয়া-বেড়ানোর বিস্তারিত তথ্য পেতে:৯৭৩৩৪৫৪৭৭৯
_____________________________________
কবিতা
কথা ও কাহিনী
প্রবাল বসু
অনেকদিন পর ঘর খুলে দেখি যেখানে সেখানে
পলেস্তারা খসে পড়েছে।
ভেজা ভেজা।
নর্দমার জল?
ওয়াক থু...
আকণ্ঠ জঞ্জাল। তবুও কথা খুঁজি কথার গভীরে।
যোগ ও সাজশকে কি কেউ এক পাত্রে রাখে?
সুতরাং একটা সূত্র তো বেরিয়ে আসবেই।
অকস্মাৎ।
তারপর তিল থেকে তাল।
সন্দেহ? না না।
কী লাভ আছে বলো?
আমিও সরাতে থাকি আগে পিছে দানা বাঁধা কথা ও কাহিনী।
লুকোচুরি কারই বা ভাল লাগে?
মুখোশ খুলে দিলে প্রতিটি মানুষই অসহায় ভেতরে ভেতরে।
__________
উত্তরণ
অরিজিৎ পাল
বৈধব্যের শূন্য সিঁথির মত পড়ে আছে আজ
ব্যস্তবাগীশ সভ্যতার সরীসৃপ পথ-ঘাট৷
নিস্তরঙ্গ নৈঃশব্দ্যের সরণি বেয়ে
হঠাৎ দমকা হাওয়া - উড়ে যায়
জীবনবিমার শেষ প্রিমিয়ামের রসিদ৷
জীবন-মৃত্যুর সাপলুডো খেলায়
বাঁচার সংগ্রাম৷ অথচ,
জ্বর কমে গেলে
ধর্মধ্বজায় বেঁচে থাকে শুধু
মৃত্যুর স্হবিরতা৷
মুঠোভরা দুঃস্বপ্নের শেষে বরং
ভরসা থাকুক তোমার-আমার
একটা একচালা জীবনের৷
এসো, মৃত্যুগন্ধী বুক নিয়েও
কবিতায় মুড়ে দিই আজ
অসভ্য, দুর্বিনীত উলঙ্গ শরীরগুলো৷
এক অবিরাম, অনন্ত আলোর পথে
সময়ের দাঁড় টেনে
একফালি স্বচ্ছতোয়া নদী বেয়ে
আমাদের দেখা হোক
এক জ্যোতির্ময় ভোরে৷
__________
প্রবন্ধ সম্বন্ধীয়
বিজ্ঞানমস্কতায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
রঞ্জিতা পাল
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে আমরা চিনি একজন সংস্কৃত পন্ডিত,সংস্কারক এবং দয়ার সাগর হিসেবেই।কিন্তু তিনিও যে একজন প্রগতিশীল,বিজ্ঞানমনস্ক তথা বিজ্ঞান অনুরাগী ছিলেন সে বিষয়ে আমরা খুব বেশি অবগত নই।পাঠ্যজীবনে বিদ্যাসাগর কিন্তু বিজ্ঞানচর্চা করেননি, যাতে তাঁর মত মানুষকে 'বিজ্ঞানী' আখ্যা দেওয়া হতে পারে;অথচ পরবর্তীকালে বিদ্যাসাগরের আচার-আচরণে একজন সার্থক বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের রূপ আমরা দেখতে পাই।
বিদ্যাসাগরের জীবনচরিত পাঠ করলে দেখা যায় ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ যখন তিনি সংস্কৃত কলেজের ছাত্র,ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যায় তিনি এক প্রস্থ পাঠ করেন।সেই জ্যোতির্বিদ্যায় কোনো অয়নচলনের উল্লেখ ছিল না।হিন্দু জ্যোতির্বিদরা জানতেন না মাস সাপেক্ষে ঋতু এগিয়ে আসে,ব্যাপারটা এইরকম ছিল,যেটা চৈত্রতে হবার কথা সেটা হচ্ছে বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠতে।সেই অজ্ঞতার দরুন,চৈত্র ও বৈশাখ মাস ধরা হত বসন্তকাল বলে।কিন্তু ইউরোপীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান থেকে বিদ্যাসাগর জানলেন,এই অয়নচলনের ব্যপারটা।তারই প্রকাশ দেখা গেল ১৮৫০ এ,তাঁর প্রকাশিত বাংলায় লেখা পাঠ্যপুস্তকে।হিন্দুজ্যোতিষে উপেক্ষিত এই অয়নচলনকে অন্তর্ভুক্ত করে তিনি সেই বইয়ে ফাল্গুন চৈত্রকে বসন্তকাল বলে উল্লেখ করলেন।এর ফলে,২৩ দিনের যে ভুল থেকে যাচ্ছিল,এতে তার অনেকটাই হ্রাস পেল,সেটি এসে নামল ৭ দিনে।
বিজ্ঞানের মৌলিক বই না লিখলেও ছাত্রদের পঠনের অসুবিধার কথা ভেবে মেধাবী পন্ডিতমশাই বিজ্ঞানের অঙ্গনে প্রবেশ করতে দ্বিধাবোধ করেননি।উইলিয়ম ও রবার্ট চেম্বার্স ভ্রাতৃদ্বয় রচিত ইংরেজি বই থেকে কয়েকজন বিজ্ঞানীর জীবনী সংকলন করে প্রকাশ করেন "জীবনচরিত"(১৮৪৯)।যে সমস্ত বিজ্ঞানীদের জীবনী 'জীবনচরিত'এ স্থান পেয়েছিল তাঁরা ছিলেন বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার কৃতবিদ্য ব্যক্তিত্ব।উদ্ভিদবিদ্ লিনিয়াস,জ্যোতির্বিদ কোপারনিকাস ও গ্যালিলিও,পদার্থবিজ্ঞানী নিউটন,ভূগোলবিদ ডুবাল এঁদের মধ্যে অন্যতম।
সমাজে অনড় হয়ে থাকা অন্ধতা, কুসংস্কারাচ্ছন্নতার কালোছায়াতে মানুষের মন যখন ছেয়ে যাচ্ছিল তখন বিদ্যাসাগর বিজ্ঞানের আলোকে জীবনচরিত বইয়ে কোপারনিকাসকে নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি লিখছেন,-
"পূর্বকালীন লোকেরা বিচারের সময় চিরাগত কতিপয় নির্ধারিত নিয়মের অনুবর্তী হইয়া চলিতেন,সুতরাং স্বয়ং তত্ত্ব নির্ণয় করিতে পারিতেন না,এবং অন্যে সুস্পষ্ট রূপে বুঝাইয়া দিলেও তাহা স্বীকার করিয়া লইতেন না।তৎকালীন লোকদিগের এই রীতি ছিল,পূর্বাচার্যেরা যাহা নির্দেশ করিয়া গিয়াছিলেন, কোনও বিষয়,তাহার বিরুদ্ধতা বা বিরুদ্ধবৎ অভাসমান হইলে,তাঁহারা শুনিতে চাহিতেন না।"
এই সুকঠিন জ্ঞানসাধনার উদ্দেশ্য তাঁর কাছে ছিল একটাই-মানুষের চেতনাকে অন্ধবিশ্বাসের এদোঁগলি থেকে যুক্তিবিচারের বাঁধানো পথে নিয়ে আসা।এ জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক বইয়ের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।
বিদ্যাসাগর প্রণীত বিজ্ঞান প্ৰবন্ধ আলোচনা করতে হলে 'বোধোদয়' চতুর্থ ভাগের উল্লেখ করতে হয়।প্রধানত,চেম্বার্সএর "রুডিমেন্টস অফ নলেজ"বইটির অনুকরণে "বোধোদয়"বইটি লেখা। জড় পদার্থ,বিভিন্ন প্রাণী,উদ্ভিদ,মানবজাতি,পঞ্চইন্দ্রিয়,ধাতু,কৃষিকর্ম,
রসায়ন,ভূবিদ্যা ইত্যাদি বিষয়ের প্রবন্ধগুলি এতে স্থান পেয়েছে।বইটির মাধ্যমে এই বিষয়গুলি সম্পর্কে কিশোরদের সম্যক ধারণা গড়ে তোলার প্রয়াস তাঁর সমগ্র চিন্তার মধ্যে লিপ্ত ছিল।তাই তিনি লিখলেন,-
"ইন্দ্রিয় জ্ঞানের দ্বারা স্বরূপ,অর্থাৎ ইন্দ্রিয় দ্বারা সর্বপ্রকার জ্ঞান জন্মে।ইন্দ্রিয় না থাকিলে আমরা কোন বিষয়ে কিছুমাত্র জানিতে পারিতাম না।...ইন্দ্রীয়বিহীন হইলে,আমরা সকল বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞান থাকিতাম।...ইন্দ্রিয় বিনিয়োগ দ্বারা অভিজ্ঞতা লাভ হয়।অভিজ্ঞতা লাভ হইলে,ভালো-মন্দ,হিত-অহিত বিবেচনার শক্তি জন্মে।"
বিশ্বাস নির্ভর অধ্যাত্মবাদী চেতনার বিপরীতে এই ভাবেই বিজ্ঞানভিত্তিক যুক্তিবাদী শিক্ষা দেশের মানুষের মধ্যে ছাড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি।
তিনি বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বিজ্ঞান সম্পর্কে চেতনা জাগাতে প্রয়াসী হয়েছিলেন।তাঁর "জীবনচরিত"ও "বোধোদয়"দুটি বইকে একযোগে বিজ্ঞানের বর্নপরিচয় ও ধারাপাত বলে মনে করা হয়।সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বিদ্যাসাগর মশাইয়ের সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকাকে "অবৈজ্ঞানিক বাঙালির প্রথম বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার"এর মর্যাদা দিয়েছিলেন।কারণ,উপক্রমণিকায় তিনি মুগ্ধবোধ এর প্রায় ১৩০০ টি সূত্র কয়েকটি পাতায় ধরে দিয়েছিলেন।অনুসৃত নীতি হলো,হাবার্ট স্পেন্সার যাকে crude method বলেছেন-তাই অর্থাৎ মুখস্ত নির্ভর শব্দ ও ধাতুরূপ আয়ত্তে করতে হবে প্রথমেই।স্মৃতির উপরে প্রথম প্রথম নিছক যান্ত্রিকভাবে ভর করে ক্রমশ বুদ্ধির প্রয়োগে সূত্র বুঝবার মত ছাত্রের মস্তিষ্কের অবস্থা ও তার অনুযায়ী মানসিক প্রবণতা তৈরি হলেই তবেই সাধারনীকরণ-এই ছিল বিদ্যাসাগরের অনুসৃত নীতি।এই পদ্ধতি ত বিজ্ঞানের পরিভাষায় "আরোহী"পদ্ধতি বা Inductive Method।আইরিশ শিক্ষাবিদ Thomas Wyse এর মতের উল্লেখ করে তিনি বলেছেন,-
"grammar and syntax are a collection of laws and rules.Rules are gathered from practice;they are the results of induction to which we come by observation and comparison of facts."
বর্নপরিচয় বিদ্যাসাগরের সেরা সৃষ্টি,একথা ত মানতেই হবে।পাণিনি থেকে ব্যোপদেব পর্যন্ত কেউই সোজা করে বাংলা বর্ণমালাকে এক জায়গায় সাজিয়ে দেননি।উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বা মাহেশ্বরসূত্র বা "অক" ইত্যাদি প্রত্যাহার অনুসারে তাঁরা স্বর ও ব্যঞ্জন একসঙ্গে করে গুচ্ছ তৈরি করেছেন, যাতে সূত্র রচনা করার সুবিধা হয়।বর্ণোদ্ধার তন্ত্র এ স্বর ও ব্যঞ্জন পৃথক করে লিখলেও,কামধেনু তন্ত্র প্রতি অক্ষরের আকারও দিয়েছেন।তারপর সংস্কৃত ব্যাকরণ লেখা হলেও,রামমোহন রায় ব্যাকরণ লিখলেও ১৮৫৩ সালে তিনি বাংলা ভাষায় বর্নপরিচয় লিখতে বসে দৃঢ়ভাবে বললেন,ষোলটি স্বরের মধ্যে দীর্ঘ ঋ-কার ও ৯-কার বাংলায় ব্যবহৃত হয় না।বিশেষভাবে ভেবে দেখলে,অনুস্বার ও বিসর্গ স্বরবর্ণতে থাকার যোগ্য নয়।এমনকি 'ক্ষ' খারিজ হলো তাঁর হাতেই।এই বর্নপরিচয় এর মূলমন্ত্র ছিল কিন্তু ধ্বনিবিন্যাস।এটাই রবি ঠাকুরের স্মৃতিতে ছিল।বিদ্যাসাগরের কান কিরকম সচেতন ও সূক্ষ্ণ ছিল এটাই বুঝি তার প্রমাণ।শ্রবনেন্দ্রিয়তার ব্যাপারটা কিন্তু বিজ্ঞানচর্চার মধ্যেই পরে।
বিজ্ঞানসম্পর্কে অতুল অনুসন্ধানই বিদ্যাসাগরকে করে তুলেছে বিজ্ঞানপ্রেমিক ও বিজ্ঞানমনস্ক।সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষের পদে আসীন হবার পর তিনি বলেন,ছাত্রদের সংস্কৃতের বদলে ইংরেজিতে গণিত বিদ্যার শিক্ষা দেওয়া উচিত।একদিকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর গ্রন্থাদি রচনায় উৎসাহ দিয়েছিলেন আবার কিছু সংশোধনের কাজও করেছিলেন প্রসন্নকুমার সর্বাধিকারী প্রণীত পাটিগনিত গ্রন্থে তিনি শব্দ সংকলনে সাহায্য করেন,বীজগণিতের বই রচনায় উৎসাহিত করেছিলেন।চন্দ্রকান্ত শর্মাকে তিনি গনিতাঙ্কুর প্রণয়নে উৎসাহিত করেছিলেন।অক্ষয়কুমার দত্ত মহাশয়ের তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় পাঠানো(১৮৩৭) বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধবলিও বিদ্যাসাগর মহাশয় যোগ্যতাসহকারে সংশোধন করতেন,একথা অক্ষয়কুমার নিজেই স্বীকার করে গেছেন।তার বৈজ্ঞানিক পরিভাষা আজও বহুল প্রচলিত,যেমন:-perspective>পরিপ্রেক্ষিত,Elasticity>স্থিতিস্থাপক(তা),Reflecting>প্রতিফলিত;Telescope>দূরবী ক্ষণ; Orbit>কক্ষ।
বিদ্যাসাগর সে যুগের এমনই এক বিরল ব্যক্তিত্ব,এদেশের সামন্ততন্ত্রের মৃত্যুকালে,যখন ধর্মীয় গোঁড়ামি, অন্ধকুসংস্কার জনজীবনকে পিষে মারছে,সেই ঝড়-ঝঞ্ঝাময় সময়ে বিদ্যাসাগরের অভ্যুদয়।অতীতের অভিজ্ঞতা নিয়ে,তাঁর যুগের উন্নততর জ্ঞানভান্ডারকে আত্মস্থ করার মধ্য দিয়ে বিচার বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এদেশের সমাজ সম্পর্কে তিনি যা করণীয় হিসেবে মনে করেছেন তা করেছেন,যা সত্য বলে বুঝেছেন তা প্রতিষ্ঠার জন্য আপসহীন সংগ্রাম করেছেন আজীবন,আর চলার পথে ছড়িয়ে দিয়ে গেছেন বস্তুবাদী যুক্তিনিষ্ঠায় উজ্জ্বল তাঁর প্রতিভাময় ব্যক্তিত্বের বিচ্ছুরণ।
____________________________________________
বিশেষ আবেদন
আদিবাসীরাই কিন্তু আমাদের দেশের আদি অধিবাসী।
পৃথিবীর অসুখের কারণে আমার আপনার পূর্ব পুরুষরা আজ গভীর সঙ্কটে।পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের প্রাচীনতম জাতিগোষ্ঠী শবর, ভূমিজ-সহ অন্যান্য অনগ্রসর সম্প্রদায়ের মানুষজন লকডাউনের কারণে গভীর খাদ্যসঙ্কটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এরা প্রত্যেকেই দ্রাবিড় নরগোষ্ঠীর অংশ হিসেবে চিহ্নিত।
আমাদের রাজ্যের পশ্চিম প্রান্তের জেলা বাঁকুড়ার কিছু অঞ্চলে এই সকল জাতিগোষ্ঠীর স্থায়ী ঠিকানা। প্রায় লক্ষাধিক মানুষের বাস এই অঞ্চলে। প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকায় এদের পেটেও আজ "লকডাউন"। সরকার তার সাধ্যমত চেষ্টা চালাচ্ছেন।তবুও ...
আসুন, আমরা মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াই। এই জনজাতিকে বাঁচাতে আপনিও আপনার সাহায্যের হাতটা একটু লম্বা করুন।
এই বার্তাটি আপনার গান /নাচ /কবিতার ভিডিওর সাথে জুড়ে দিন , তাহলে আরও বেশি মানুষের কাছে সহজে ছড়িয়ে যাবে ।
ধন্যবাদ।
Description : "Corona Donation"
A/C No. 50100197737146
IFSC Code : HDFC0002505
Donation to be made to: Saikat Sundar Mandal
Google Pay : 9732069997
------------------------------------------------

































সময়োপযোগী সাধু উদ্যোগ। বদ্ধ আবহাওয়ায় তাজা অক্সিজেন।আশা করবো লেখক, পাঠক ও প্রকাশকের মিলিত প্রচেষ্টায় এর শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে এবং জনপ্রিয় হবে। --- গোপাল দাস (ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক)।
উত্তরমুছুন